ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬–এ চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, সাবেক মন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৪১ হাজার ২৬৯ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম নগরের বন্দর স্পোর্টস কমপ্লেক্সে একে একে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের ফলাফল আসতে শুরু করে। পরে সব কেন্দ্রের ফলাফল একত্রিত হওয়ার পর বেসরকারিভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পেয়েছেন মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ২১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলম পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৫২ ভোট। ফলে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ২৬৯, যা এই আসনে একটি বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ ব্যবধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে চেয়ারম্যান প্রতীকের মুহাম্মদ আবু তাহের পেয়েছেন ৫ হাজার ১০১ ভোট এবং হাতপাখা প্রতীকের মো. নুর উদ্দিন পেয়েছেন ২ হাজার ৫১৫ ভোট। লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আবু তাহের পেয়েছেন ৯৭৬ ভোট, মই প্রতীকের মো. নিজামুল হক পেয়েছেন ১২১ ভোট এবং আপেল প্রতীকের মো. আজিজ মিয়া পেয়েছেন ২০৯ ভোট।
এ ছাড়া সূর্যমুখী ফুল প্রতীকের মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ভূইয়া পেয়েছেন ১৭১ ভোট, ট্রাক প্রতীকের মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন পেয়েছেন ১০২ ভোট এবং কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী দীপা মজুমদার পেয়েছেন ২১৩ ভোট। উদীয়মান সূর্য প্রতীকের প্রার্থী উজ্জ্বল ভৌমিক পেয়েছেন ২৯৭ ভোট।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম-১১ আসনে প্রাপ্ত বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪৭৮। এই আসনে মোট ১৪৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনী এলাকা বন্দর ও পতেঙ্গা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৯৫ হাজার ২৭৬ জন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভোটগ্রহণকালীন সময় সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ ও গণনা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সমর্থকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
এনআই