আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঠাকুরগাঁও–২ (বালিয়াডাঙ্গী–হরিপুর) আসনে ৩৭ বছর পর জয় পেয়েছে বিএনপি। দলটির মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুস সালাম এ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত দুইটার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ইশরাত ফারজানা চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪০ হাজার ৪৯ জন। বিএনপির প্রার্থী ডা. আব্দুস সালাম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২১ হাজার ১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম পান ১ লাখ ১৫ হাজার ৭০৭ ভোট।
এ ছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুন নাহার বেগম পান ২ হাজার ৮৭৬ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের ফারুক হাসান ১ হাজার ৮৪৩ ভোট, এবি পার্টির নাহিদ রানা ৪৫১ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেজাউল ইসলাম ৪৩৭ ভোট এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাহাবুদ্দিন পান ৩৮০ ভোট। আসনটিতে ১০৪টি কেন্দ্রে মোট ভোট পড়েছে ৭৩ দশমিক ০৪ শতাংশ।
ডা. আব্দুস সালাম ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)–এর সাবেক মহাসচিব। দীর্ঘ সময় জোট রাজনীতির বাইরে থেকে এবার প্রথমবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
বিজয়ের পর ডা. আব্দুস সালাম বলেন, “আমরা কারও প্রতি অন্যায় করব না। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত—সবাইকে নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব।” নির্বাচনী প্রচারণায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আশ্বাসও দেন তিনি।
উল্লেখ্য, ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে এ আসন থেকে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন দবিরুল ইসলাম। পরে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে দলটির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে তাঁর ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এ আসনে জয় পান।
ইখা