সুদানে ত্রাণবাহী বহরে ড্রোন হামলায় অন্তত ৩ জন ত্রাণকর্মী নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। দেশটির চিকিৎসকদের সংগঠন সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক এ তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনটির বরাতে আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এবং তাদের মিত্রগোষ্ঠী যৌথভাবে খাদ্য ও মানবিক সহায়তা বহনকারী ট্রাকের বহরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। বহরটি কারতালা এলাকা দিয়ে কাদুগলি ও ডিলিং শহরের দিকে যাচ্ছিল।
সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং ত্রাণকর্মীদের সুরক্ষা সংক্রান্ত সব নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। তারা জানিয়েছে, এক মাসেরও কম সময়ে এটি দ্বিতীয় হামলা। এর আগে আল-রাহাদ শহরে জাতিসংঘের একটি ত্রাণবহরে গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আরএসএফ নেতৃত্বের ওপর জরুরি ও কার্যকর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। ত্রাণবহর ও ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে এ পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।
আল-জাজিরা সর্বশেষ এ হামলার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। এর এক মাস আগে সরকারপন্থি সুদানিজ আর্মড ফোর্সেস (এসএএফ) প্রায় দুই বছর ধরে চলা আরএসএফের অবরোধ ভেঙে ডিলিং শহরের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করার ঘোষণা দেয়।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে আরএসএফ ও এসএএফের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সুদানজুড়ে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ চলছে। এতে হাজারো মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
রাজধানী খার্তুম থেকে পিছু হটার পর আরএসএফ কর্দোফান অঞ্চল ও উত্তর দারফুরের এল-ফাশের শহরে অভিযান জোরদার করে। এল-ফাশের ছিল দারফুর অঞ্চলে সামরিক বাহিনীর শেষ শক্ত ঘাঁটি। এটি গত অক্টোবরে আরএসএফ দখল করে। এল-ফাশের দখলের পর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, অপহরণ ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে।
এদিকে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ কর্তৃক গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য-অনুসন্ধান মিশন জানায়, এল-ফাশের অবরোধের সময় আরএসএফ অ-আরব জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ‘সমন্বিত ধ্বংসযজ্ঞ’ চালিয়েছে, যার বৈশিষ্ট্য গণহত্যার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়, আরএসএফ গণহত্যার পাঁচটি মানদণ্ডের অন্তত তিনটি পূরণ করেছে। এগুলো হলো সুরক্ষিত জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা, গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি সাধন এবং আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংসের উদ্দেশ্যে জীবনধারণের অনুপযোগী পরিস্থিতি সৃষ্টি।
এমআর-২