এইমাত্র
  • ইরানকে সমঝোতায় পৌঁছাতে ১০ দিন সময় দিলেন ট্রাম্প
  • যাকাত: ফরজ ইবাদত, অসহায়ের অধিকার
  • বিদায় হেয়ার রোড: আসিফ নজরুল
  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
  • বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আন্ত মন্ত্রণালয় সভা
  • শিক্ষকদের উৎসব ভাতা নিয়ে বিশাল সুখবর
  • তারেক রহমানকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিঠি
  • ইরানে হামলার প্রস্তুতি শেষ, ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষায় সামরিক বাহিনী
  • তিন বছরে পাঁচ লাখ শ্রমিক নেবে ইতালি, শেষ প্রথম ধাপ
  • ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রু গ্রেপ্তার
  • আজ শুক্রবার, ৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    খানসামায় রমজান ঘিরে বাজারে অস্থিরতা, ঊর্ধ্বমুখী দামে দিশেহারা নিম্নআয়ের মানুষ

    ফারুক আহম্মেদ, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
    ফারুক আহম্মেদ, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

    খানসামায় রমজান ঘিরে বাজারে অস্থিরতা, ঊর্ধ্বমুখী দামে দিশেহারা নিম্নআয়ের মানুষ

    ফারুক আহম্মেদ, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

    পবিত্র রমজানকে ঘিরে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলাজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। বিশেষ করে তেল, ছোলা ও খেজুরের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। সংযম ও সহমর্মিতার এই মাসে ইফতারের আয়োজন করতে গিয়ে অনেক পরিবারকেই এখন বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।


    স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২০০ টাকায়। বোতলজাত তেলের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৬ টাকা। ইফতারের অন্যতম প্রধান উপকরণ ছোলার দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ৮ টাকা। খেজুরের বাজারেও অস্থিরতা—মানভেদে ২৪০ টাকা থেকে ১,১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফলে নিম্নআয়ের অনেক পরিবার আগের মতো পরিমাণে খেজুর কিনতে পারছে না।


    ফলমূলের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি স্পষ্ট। আপেল ২৮০ থেকে ৩৪০ টাকা, কমলা ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং আঙুর ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কলা প্রতি হালি ৫০ টাকা এবং লেবু ৬০ টাকা। এতে ইফতারের টেবিলে ফল রাখা এখন অনেকের জন্য বাড়তি খরচের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


    সবজির বাজারেও একই চিত্র। আলু কেজিপ্রতি ১৫ টাকা হলেও কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, রসুন ১৪০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা এবং টমেটো ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁয়াজ ৫০ টাকা ও গাজর ৪০ টাকা। প্রতিদিনের রান্নাবান্নার খরচও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।


    মাংসের বাজারে পরিস্থিতি আরও কঠিন। দেশি মুরগি ৫০০ টাকা, ব্রয়লার (কাটা) ২৫০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দিনমজুর ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর পক্ষে সপ্তাহে এক দিন মাংস কেনাও এখন কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে ডাল-সবজি দিয়ে ইফতার ও সেহরি সারছেন।


    বাজারে কথা হয় স্থানীয় ক্রেতা সুজন শেখের সঙ্গে। তিনি জানান, “রমজান এলেই কিছু ব্যবসায়ী হঠাৎ করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। তেল, ছোলা, খেজুর—সবকিছুর দাম একসঙ্গে বেড়ে গেছে। আমাদের আয় তো বাড়েনি, তাহলে এত বাড়তি খরচ কীভাবে সামলাব? বাজারে যদি নিয়মিত নজরদারি থাকত, তাহলে এভাবে দাম বাড়ানোর সুযোগ পেত না কেউ। আমরা চাই প্রশাসন শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তবে কঠোর ব্যবস্থা নিক।”


    ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা করছেন। বাজারে নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এই অস্থিরতা বাড়ছে বলেও দাবি তাদের।


    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, “রমজানকে কেন্দ্র করে কেউ যেন অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। ইতোমধ্যে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে বা অতিরিক্ত মুনাফা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”


    তিনি আরও জানান, বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি ভোক্তাদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান।


    তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে? বাজারের দামের ঊর্ধ্বগতি কি সত্যিই নিয়ন্ত্রণে আসবে? রমজান সংযমের মাস হলেও বাজারে সংযমের ছিটেফোঁটাও নেই—এমন মন্তব্য করছেন অনেকে। নিম্নআয়ের মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা হবে; অন্যথায় ইফতারের টেবিলে খাবারের চেয়ে দীর্ঘশ্বাসই বাড়বে বেশি।


    এনআই

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…