এইমাত্র
  • জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সালিম সামাদ মারা গেছেন
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
  • চাঁদাবাজির অভিযোগে ফতুল্লায় এনসিপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ৪
  • বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, যা জানাল আবহাওয়া অফিস
  • আশুলিয়ায় চিকিৎসক দম্পতির বিরুদ্ধে শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ
  • মেঘনায় নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে চাপে ক্রেতারা
  • ঈদের আগেই ইমাম-মুয়াজ্জিন-খতিবদের সম্মানি পৌঁছে দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
  • দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ায় ইমামকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
  • মাদারীপুরে প্রবাসীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ, দুই দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ
  • শার্শায় পল্লী চিকিৎসক আল আমিন হত্যা: যুবদলের তিন কর্মী আটক
  • আজ রবিবার, ৯ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    লাশ হস্তান্তরে গড়িমসি, ঘুষ দাবির অভিযোগে প্রশ্নের মুখে কর্ণফুলী থানার এসআই

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৭ এএম

    লাশ হস্তান্তরে গড়িমসি, ঘুষ দাবির অভিযোগে প্রশ্নের মুখে কর্ণফুলী থানার এসআই

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৭ এএম

    চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক ব্যক্তির মরদেহ প্রায় ২৭ ঘণ্টা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পড়ে থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা।


    নিহত মো. রাসেল (৩৬) চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ঠাকুরবাড়ি এলাকার আবুল কালামের ছেলে। তিনি কর্ণফুলীর বড়উঠান এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। এক বছর আগে বিয়ে করেন তিনি। তার স্ত্রী বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।


    পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে বড়উঠান শাহমীরপুর ফকিন্নীরহাট বাজারের দক্ষিণ পাশে পিএবি সড়কে রাস্তা পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন রাসেল। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে দুপুর ২টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে কর্ণফুলী থানার একটি দল সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ মর্গে পাঠায়।


    স্বজনদের অভিযোগ, তারা কোনো মামলা করতে চান না জানিয়ে লিখিতভাবে ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ হস্তান্তরের আবেদন করেন। থানায় গিয়ে ওসির সঙ্গেও কথা বলেন।


    থানা সূত্র জানায়, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর আলম ও অপারেশন অফিসার এসআই নুরুল ইসলাম প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও স্বাক্ষর নেওয়ার পর মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে মৌখিক নির্দেশ দেন।


    তবে পরিবারের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই মো. মিজানুর রহমান ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ দিতে অস্বীকৃতি জানান। নিহতের সাবেক স্ত্রী থাকতে পারে—এমন যুক্তি তুলে তিনি সময়ক্ষেপণ করেন।


    স্বজনদের দাবি, প্রথমে ৫০ হাজার টাকা, পরে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় মরদেহ আটকে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত ময়নাতদন্ত করাতে গিয়ে মর্গ-সংক্রান্ত খরচও বহন করতে হয়েছে।


    নিহতের আত্মীয় মোহাম্মদ হেলাল বলেন, “ওসি ও অপারেশন অফিসার লাশ দিতে বলার পরও এসআই দেননি। তার আচরণ ছিল অপেশাদার। অযৌক্তিকভাবে টাকা দাবি করা হয়েছে।”


    নিহতের বাবা আবুল কালাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ছেলের লাশ নিতে আমাদের ২৩–২৭ ঘণ্টা দৌড়ঝাঁপ করতে হয়েছে।”


    অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, “ওসি স্যার সরাসরি লাশ দিতে বলেননি। সম্ভাব্য দুই স্ত্রী থাকলে তাদের এনে স্বাক্ষর নিতে বলেছেন। যেহেতু তা হয়নি, তাই আইনগত প্রক্রিয়ায় ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।”


    অপারেশন অফিসার এসআই নুরুল ইসলাম বলেন, পরিবার মামলা না করলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে মরদেহ হস্তান্তরের কথা বলা হয়েছিল। কেন দেওয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে।


    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি শাহীনূর আলম বলেন, “পরিবারের আপত্তি না থাকলে দ্রুত লাশ দেওয়ার নির্দেশ ছিল। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।”

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…