রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার উগলছড়ি বিল ও কচুছড়ি এলাকার বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে স্থানীয় কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে ব্যাপক আকারে তরমুজ চাষ করেছেন। পাশাপাশি বিদেশি জাতের শাম্মাম ও বাঙ্গির আবাদও হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা।
চাষিদের অভিযোগ, তরমুজ চাষে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ পেতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা মেলেনি। রোগবালাই দমন ও সেচ ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত ব্যয় করতে হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে।
এ ছাড়া ফলন আসার পর থেকে জমিতে চুরির আশঙ্কা বেড়েছে। ফলে রাত জেগে তরমুজ পাহারা দিতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে শ্রম ও নিরাপত্তা ব্যয়ও বেড়েছে বলে জানান তারা।
বিক্রেতাদের দাবি, রমজান মাসকে সামনে রেখে স্থানীয় বাজারে তরমুজের চাহিদা রয়েছে। তবে দাম এখনো ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। বড় আকারের তরমুজ প্রতিটি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং মাঝারি ও ছোট আকারের তরমুজ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় হাটের ব্যবসায়ীরা জানান, আগে শহর থেকে তরমুজ এনে বিক্রি করতে হতো। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তরমুজ দিয়েই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে, ফলে পরিবহন ব্যয় কমে লাভের সম্ভাবনাও বাড়ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নূর আলম বলেন, চলতি বছর উপজেলায় আনুমানিক ১৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে; গত বছর ছিল ১২ হেক্টর। তবে সরকারি বরাদ্দ না থাকায় কৃষকদের প্রণোদনা বা বীজ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। কেবল একজন চাষিকে প্রদর্শনী প্রকল্পের আওতায় বীজ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।
ভালো ফলন সত্ত্বেও বাড়তি উৎপাদন ব্যয় ও নিরাপত্তা সংকটে লাভ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন বাঘাইছড়ির তরমুজ চাষিরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা তাদের।
ইখা