কক্সবাজারের চকরিয়ায় আবারও গরু ও মহিষ চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় গৃহস্থ, কৃষক ও খামারিদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই রাতের আঁধারে গবাদিপশু চুরির ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতেও চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় নিয়মিত গরু চুরির ঘটনা ঘটত। এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গৃহস্থ ও খামারিরা থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও চুরি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে চিরিঙ্গা ইউনিয়নের চরণদ্বীপ এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি চিংড়িঘের এলাকা থেকে শফি আলমের ৯টি এবং একই এলাকার আব্দুর শুক্কুরের ৫টি মহিষ চুরি হয়েছে। এক রাতেই ১৪টি মহিষ চুরির ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি রাতে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে খামারি নূরুল আজিম মানিকের ২টি, মহসিন রিমনের ৩টি এবং এনামুল হকের ২টি গরু সশস্ত্র চোরচক্র নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় প্রান্তিক খামারিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সরেজমিনে জানা গেছে, অনেক পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন গবাদিপশু চুরি হয়ে যাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গরু চুরি ঠেকাতে বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়রা রাত জেগে খামার ও গোয়ালঘর পাহারা দিলেও চুরি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ ও প্রভাবশালী চোরচক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকায় তাদের আইনের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, গরু ও মহিষ চুরিসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ টিম কাজ করছে। চোরচক্র শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গবাদিপশু চুরি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কৃষক ও খামারিদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
ইখা