কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার শিক্ষাঙ্গনে দীর্ঘ এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। টানা ৩৯ বছরের শিক্ষকতা জীবন শেষে অবসরে গেলেন মানিকারচর সাহেরা লতিফ মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ছিল তাঁর শেষ কর্মদিবস।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৯ জুলাই তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে মানিকারচর সাহেরা লতিফ মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটিকে উপজেলার অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে। পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও বিদ্যালয়টি নতুন মাত্রা লাভ করে।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় অংশীজনদের সমন্বয়ে তিনি একটি ইতিবাচক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হন। বিশেষ করে নারী শিক্ষার প্রসারে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কর্মজীবনে তিনি একাধিকবার উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। একই সময়ে বিদ্যালয়টিও শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্মান অর্জন করে।
আবুল কালাম ভূঁইয়া প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলীর জন্যও পরিচিত ছিলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি সততা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতেন। শিক্ষা ও শিক্ষকতা বিষয়ক তাঁর রচিত কবিতাও শিক্ষাঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে।
শিক্ষকতা জীবনের শুরুতে তিনি সোনারগাঁওয়ের তাহেরপুর হাজী লাল মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং মুজাফফর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে সহকারী শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে মানিকারচর সাহেরা লতিফ মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করেন।
তিনি মেঘনা উপজেলার বারহাজারী গ্রামের মরহুম কলিম উদ্দিন ভূঁইয়া (মাস্টার)–এর কনিষ্ঠ পুত্র। শিক্ষাক্ষেত্রের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। তিনি দুই মেয়াদে বাংলাদেশ স্কাউটসের মেঘনা উপজেলা শাখার কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি মেঘনা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক, দক্ষ সংগঠক এবং নৈতিকতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তাঁর অবসর শিক্ষাঙ্গনে এক নীরব বিদায়ের অনুভূতি তৈরি করলেও রেখে গেছে অসংখ্য শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীর মাঝে অনুপ্রেরণার স্মৃতি। মেঘনার শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ইখা