এইমাত্র
  • মসজিদুল আকসায় এশা ও তারাবি নামাজ বন্ধ
  • বাহুবলে খরস্রোতা করাঙ্গী নদী এখন মরা খাল, দিশাহারা কৃষক
  • চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পাঁচজন গ্রেপ্তার
  • কাবুলের আকাশে বিস্ফোরণ, পাকিস্তানি বিমানে গুলিবর্ষণ আফগান বাহিনীর
  • আজও মধ্যপ্রাচ্যগামী ২৭ ফ্লাইট বাতিল, বিড়ম্বনায় যাত্রীরা
  • জামায়াত নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে জীবননগরে বিক্ষোভ, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
  • এক নজরে ইরানের প্রধান রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা
  • ১৫ বছর পর রোগীদের খাবার সরবরাহে নতুন ঠিকাদার
  • বাউফলে কালী প্রতিমা ভাঙচুর
  • খামেনিকে হত্যার ‘নেপথ্যে সৌদি আরব’!
  • আজ রবিবার, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ১ মার্চ, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    স্বামী পরিত্যাক্তা মানসিক ভারসাম্যহীন রেখা রানীর রাত কাঁটে খোলা আকাশের নিচে

    এনামুল হক দুখু, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১ মার্চ ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
    এনামুল হক দুখু, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১ মার্চ ২০২৬, ০১:০৩ পিএম

    স্বামী পরিত্যাক্তা মানসিক ভারসাম্যহীন রেখা রানীর রাত কাঁটে খোলা আকাশের নিচে

    এনামুল হক দুখু, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১ মার্চ ২০২৬, ০১:০৩ পিএম


    নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের উত্তর চাঁদখানা বগুলাগাড়ী কামার পাড়া গ্রামের  স্বামী পরিত্যাক্তা মানসিক ভারসাম্যহীন রেখা রানীর (২০) রাত কাঁটে একটি ঘরের অভাবে খোলা আকাশের নিচে। তার বাবার নাম মৃত তরণি রায় ও মায়ের নাম মৃত পূর্ণিমা রানী রায়।


    বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই তার। এক ভাই ও এক বোন রেখা রানীরা। ভাইয়েরও তেমন কিছু নেই। একটি কোম্পানিতে লেবারের কাজ করে যা পান তাই দিয়ে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে কোনরকম জীবনযাপন করেন। 


    বিয়ের আগে মাথার কোন সমস্যা ছিলো না রেখা রানীর। সে খুব ভালো মেয়ে ছিলো বলে জানান তার গ্রামের নমিতা নামের এক প্রতিবেশি। 


    রেখা রানী অশ্রুভেজা চোখে বলেন, আমার মা-বাবা বেঁচে নেই। স্বামী বেঁচে থেকেও নেই। স্বামী পাগল ছিলো। তার পরিবারের লোকজন আমাকে বিভিন্ন যন্ত্রণা দিয়ে তাদের বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছে। আমার যে মেয়েটা ছিলো সেই মেয়েটা ওর বাবার কাছে আছে। আমার ভাই কষ্ট করে জীবনযাপন করে। আমাকে কিভাবে খাওয়াবে? আমার থাকার চালাটা মাটিতে পরে গেছে৷ আমার খাওয়ার কিছু নেই। থাকার ঘর নেই। গোসলের জন্য জায়গা নেই, টিউবওয়েল নেই। কেউ যদি আমার গরীবের এই উপকার করে তাহলে ভগবান তার ভালো করবে। আমি তার জন্য আশির্বাদ করবো ভগবানের কাছে।


    প্রতিবেশি নমিতা রায় বলেন, 'রেখা বিয়ের আগে খুবই ভালো ছিলো। তার কোন শারীরিক সমস্যা ছিলো না। তার ভাই দেখেশুনে তাকে বিয়ে দিয়েছিলো পাশের এলাকা তারাগঞ্জ বাজারের গোয়ালপাড়াতে। বিয়ের পর তার একটি মেয়ে সন্তান হয়। এরপর রেখা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পরে। ওর দিকে তাকালে খুব খারাপ লাগে। সারাদিন খেয়ে না খেয়ে থাকে। থাকার ঘর নেই। টিউবওয়েল নেই৷ একটি চালা ছিলো সেই চালাটাও ভেঙে মাটিতে পরে আছে। ওর এত কষ্ট চোখের সামনে দেখে মাঝে মাঝে আমি তাকে ডেকে নিয়ে বাড়িতে ভাত খাওয়াই।'


    আর এক প্রতিবেশি মাহী রায় বলেন, ' আমি ওর বাড়ির পাশ দিয়ে রাস্তায় চলাচল করি। আমি তারাগঞ্জ বাজারের একটি কসমেটিক দোকানে কাজ করি। আমি দেখি রেখা রানী ভাঙা চালাটার কোনে বসে থাকে। এখন দেখছি সেই ভাঙা চালাটাও পরে গেছে মাটিতে। রেখার থাকার ঘর নেই, গোসলের স্থান নেই, টিউবওয়েল নেই, খাবারের ব্যবস্থা নেই। কম বয়সী একটা মেয়ে। বয়স আনুমানিক ২০ বছর হবে। এই অল্প বয়সেই মা-বাবা হারা স্বামী পরিত্যাক্তা মেয়েটার কষ্ট দেখে খুবই খারাপ লাগে। আমি নিজেও অন্যের দোকানে কাজ করে খাই। আমার সাহায্য করার মত তেমন কিছু নেই। কিন্তু সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে এসে সাহায্য করা উচিৎ। 


    কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তানজিমা আনজুম সোহানিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।



    এসআর

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…