জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন, ভার্চুয়াল সংযোগ, করতালিতে মুখর সভাকক্ষ সবই হয়েছিল। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও লাইব্রেরি চালু হয়নি। বই নেই, কাজ অসম্পূর্ণ। দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাবলিক লাইব্রেরি এখন প্রশ্নের মুখে।
গত বছরের বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) খানসামা উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। সেদিন বক্তারা আশাবাদ প্রকাশ করেছিলেন, লাইব্রেরি হবে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ।
তবে বাস্তবতা ভিন্ন। এখনও লাইব্রেরির কিছু কক্ষে রঙের কাজ অসম্পূর্ণ, বৈদ্যুতিক সংযোগ ঝুলে আছে। কিছু জানালা এখনো চূড়ান্ত রঙের বাইরে। বুকশেলফ খালি, পাঠ্যপুস্তক কিংবা রেফারেন্স বই নেই। ফলে ভবনের চারপাশে গৃহীত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের পরও কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা হতাশ। এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, “উদ্বোধনের সময় আমরা আশা করেছিলাম, পড়াশোনার জন্য পরিবেশ তৈরি হবে। কিন্তু তিন মাস পরও সবকিছু বন্ধ। পাঠকরা লাইব্রেরিতে যেতে পারছেন না, তাই হতাশা বেড়েছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, লাইব্রেরি শুধুমাত্র একটি ভবন নয়, এটি জ্ঞানের আলো ছড়ানোর কেন্দ্র। খালি তাক আর অসম্পূর্ণ দেয়াল দিয়ে সেই আলো জ্বলে না। তাই তারা দাবি করছেন, দ্রুত অবশিষ্ট কাজ শেষ করা হোক এবং বই সংগ্রহের জন্য আলাদা বরাদ্দ দেওয়া হোক।
উপজেলা বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এই লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্য জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে পারবে। ৫৩ লাখ টাকার এই প্রকল্প যাতে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তৎপরতা অপরিহার্য।
প্রকল্পের ঠিকাদার বেলাল হোসেন বলেন, “ইউএনও স্যার ফোন করে বলেছেন, এ মাসের মধ্যেই সব কাজ শেষ করতে হবে। আমি দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। আশা করি নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারব।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের ভেতরে নির্মাণ সামগ্রীর চিহ্ন এখনও রয়ে গেছে। কিছু কক্ষে জানালার রঙ কাজ হয়নি। বৈদ্যুতিক সংযোগ অসম্পূর্ণ। ভবনের মূল কাঠামোগত কাজ শেষ হলেও, কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় ছোটখাটো কাজগুলো এখনো বাকি।
এমন পরিস্থিতিতে খানসামাবাসী মনে করছেন, উদ্বোধন জাঁকজমকপূর্ণ হলেও লাইব্রেরি চালু না হওয়ায় প্রকল্পটি জনমনে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। তাদের দাবি, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করে লাইব্রেরি খোলা হোক এবং বই পৌঁছে যাক, যাতে এটি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য কার্যকর একটি জ্ঞানকেন্দ্রে পরিণত হয়।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, মূল নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। জানালার থাই রঙ এবং ইলেকট্রিকের কিছু কাজ বাকি আছে। এগুলো সম্পন্ন হলেই লাইব্রেরি পুরোপুরি ব্যবহারযোগ্য হবে।
তিনি আরও জানান, বই নিয়ে উদ্বেগ করা অযথা। লাইব্রেরির জন্য আলাদা বরাদ্দ প্রয়োজন। নির্মাণ বাজেটের সঙ্গে বই কেনার অর্থ নেই
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, “ঠিকাদারকে ডাকা হয়েছে। আমরা চাই, গুণগত মান ঠিক রেখে কাজ শেষ হোক। তাড়াহুড়া করে নিম্নমানের কাজ গ্রহণ করা হবে না। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মানসম্মত একটি লাইব্রেরি প্রয়োজন।
এ মুহূর্তে খানসামার নজর লাইব্রেরির দরজার দিকে। সবার আশা কবে খুলবে দরজা, কবে ভরে উঠবে খালি তাকগুলো। শিক্ষার্থীদের জন্য এক সময়ের প্রতিশ্রুতির জ্ঞানকেন্দ্র যেন অবশেষে বাস্তবতা হয়।
এসআর