ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন ভিত্তিক ভোটার তালিকা পর্যালোচনায় সবচেয়ে বেশি ভোটার গাজীপুর-২ আসনে। আর সবচেয়ে কম ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে।
গাজীপুর-২ আসনে আট লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন ভোটার রয়েছেন। ভোটারের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা-১৯ আসন। সাত লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন ভোটার আছেন এই আসনে। তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোটার গাজীপুর-১ আসনে, সাত লাখ ২০ হাজার ৯৩৯ জন ভোটার।
অপরদিকে কম ভোটারের সারিতে ঝালকাঠি-১ আসনে দুই লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন।
ভোটার তালিকা অনুযায়ী, আট লাখের বেশি ভোটার রয়েছে কেবল গাজীপুর-২ আসনে। সাত লাখের বেশি ভোটার রয়েছে তিনটি আসনে। সেগুলো হলো—ঢাকা-১৯, গাজীপুর-১ ও নোয়াখালী-৪ আসন।
ছয় লাখের বেশি ভোটার রয়েছে, এমন আসন সাতটি আসনের মধ্যে রয়েছে— ময়মনসিংহ-৪, সিলেট-১, কুমিল্লা-৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, ঢাকা-১৮, যশোর-৩ ও কুড়িগ্রাম-২ আসন।
পাঁচ লাখের বেশি ভোটার রয়েছে, এমন আসনের সংখ্যা ৫২টি। এগুলো হলো— নারায়ণগঞ্জ-৩, জামালপুর-৫, ময়মনসিংহ-২, বগুড়া-৫, কুড়িগ্রাম-১, রাজবাড়ী-২, দিনাজপুর-৬, কিশোরগঞ্জ-১, চট্টগ্রাম-৮, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা, হবিগঞ্জ-৪, চাঁদপুর-৩, কক্সবাজার-৩, মুন্সীগঞ্জ-১, ঢাকা-১, নারায়ণগঞ্জ-৪, কক্সবাজার-১, জামালপুর-৩, বগুড়া-৭, কুমিল্লা-১০, সাতক্ষীরা-২, কিশোরগঞ্জ-২, পাবনা-৫, সুনামগঞ্জ-৫, গাজীপুর-৩, চাঁদপুর-৫, বরগুনা-১, সিলেট-৪, নোয়াখালী-৩, চুয়াডাঙ্গা-১, ঠাকুরগাঁও-১, ফরিদপুর-১, রংপুর-৪, মুন্সীগঞ্জ-৩, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা, সিলেট-৬, রংপুর-৩, ফেনী-৩, ঝিনাইদহ-২, গাইবান্ধা-৩, চট্টগ্রাম-১৫, পটুয়াখালী-১, নোয়াখালী-৫, নেত্রকোনা-২, সাতক্ষীরা-৩, ভোলা-৪, চট্টগ্রাম-৫, সুনামগঞ্জ-১, বরিশাল-৫, চাঁদপুর-২, কুমিল্লা-৩ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা হওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার পর বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াল এক হাজার ৮৪২ জন।
বর্তমানে ৯টি আসনে দুজন করে এবং ২২টিতে তিনজন করে বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া অবশিষ্ট আসনগুলোয় প্রার্থী সংখ্যা তিনজনের বেশি। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করায় ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩ আসনে তার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়নি। রোববার বিকালে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় শেষ হয়েছে।
ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যাচাই-বাছাইয়ে ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই স্বতন্ত্র। প্রার্থিতার জন্য নিজ নিজ আসনে ভোটারের এক শতাংশের স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। তবে স্বাক্ষর গরমিলের কারণে বেশির ভাগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
জমা হওয়া মনোনয়নপত্র গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে রবিবার পর্যন্ত পাঁচ দিন যাচাই-বাছাই করা হয়। মনোনয়নপত্র বাতিল ও বৈধ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আজ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন সংক্ষুব্ধরা। ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করবে ইসি। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হবে। এরপর নির্ধারণ হবে চূড়ান্ত প্রার্থী। তখন প্রার্থী সংখ্যা আরও কমতে পারে।
এ নির্বাচনে তিন হাজার ৪০৬ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে জমা দেন দুই হাজার ৫৬৮ জন। ১১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
ইখা