এইমাত্র
  • এবার তারেক রহমানের নিরাপত্তা টিমে তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিয়োগ
  • ফেনীতে পদত্যাগ করলেন এনসিপির ৫ নেতা
  • চুরি করতে ঘরে ঢোকার সময় ভেন্টিলেটরের ছিদ্রে আটকে গেল চোর
  • নেপালে ভয়াবহ সহিংসতা-মসজিদে ভাঙচুর, সীমান্ত বন্ধ করলো ভারত
  • জকসু নির্বাচনের ভোট গণনা স্থগিত
  • আফগানিস্তানে সোনা উত্তোলন নিয়ে সংঘর্ষ, নিহত একাধিক
  • রামগঞ্জে ১১১ মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিল স্মার্ট
  • মাথায় ব্যান্ডেজ অবস্থায় আদালতে মাদুরোর স্ত্রী
  • ফেলানী হত্যার ১৫ বছর, এখনো ন্যায় বিচারের আশায় পরিবার
  • হু হু করে কমছে কেকেআরের ফলোয়ার সংখ্যা, ১ দিনেই নেই ১০ লাখ
  • আজ বুধবার, ২৪ পৌষ, ১৪৩২ | ৭ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    লক্ষ্মীপুর-৪

    একক প্রার্থীতে উজ্জীবিত বিএনপি, বিভক্ত ইসলামী দল, সমীকরণ পাল্টাতে পারে জেএসডি

    রিমন আহমেদ রাজু, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম
    রিমন আহমেদ রাজু, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম

    একক প্রার্থীতে উজ্জীবিত বিএনপি, বিভক্ত ইসলামী দল, সমীকরণ পাল্টাতে পারে জেএসডি

    রিমন আহমেদ রাজু, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে বইছে উৎসবমুখর নির্বাচনী হাওয়া। বিএনপির এক সময়ের এই ‘দুর্গ’ পুনরুদ্ধার করতে ধানের শীষের প্রার্থী যখন একক শক্তিতে উজ্জীবিত, তখন জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যকার ভোট বিভাজন সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। এ আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র নিলেও যাচাই বাছাইতে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। বর্তমানে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাঠপর্যায়ে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারে সরগরম এখন রামগতি ও কমলনগরের জনপদ।

    প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি থেকে দুইবারের সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে কমলনগর উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ (হাতপাখা), জেএসডি থেকে দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি তানিয়া রব (তারা), জামায়াতে ইসলামী থেকে এ আর হাফিজ উল্লাহ, গণ অধিকার পরিষদ থেকে রিদওয়ান উল্যা খাঁন, বাসদ থেকে মিলন মণ্ডল।

    এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৬৩৪ জন। আসনটিতে ১২১টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। বড় এই ভোটারসংখ্যার সামান্য বিভাজনই ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

    ঘাঁটি পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি:

    রামগতি-কমলনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-৪ আসন। আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ আসন থেকে এমপি, মন্ত্রী ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আসম আব্দুর রব। মন্ত্রী হয়েছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অবঃ) আব্দুল মান্নান, এমপি হয়েছে সিএসপি আব্দুর রব চৌধুরী ও এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। ২০০১  থেকে ১৩ সাল পর্যন্ত টানা দুইবার ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে এমপি হন নিজান। এর পর তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি। সে লক্ষ্যে ধানের শীষের প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন নিজান দীর্ঘ ১ বছর ধরে রামগতি-কমলনগরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে তৃনমুল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হন। ব্যক্তি নিজান এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় নেতা। অন্যদিকে তিনি ধানের শীষেরও প্রার্থী। সবমিলিয়ে আসনটি এবার বিএনপির দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে দলটি।

    এ ব্যাপারে আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, রামগতি-কমলনগর আমার জন্মভূমি, এ আসন থেকে জনগণের ভোটে আমি দুবার সংসদ সদস্য হয়েছি, এবারও বিশ্বাস করি, মানুষ বিএনপিকে বিজয়ী করবে। এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সমস্যা নদী ভাঙন রোদ ও ভূলুয়া নদী খনন করা। আমি আমার ভোটারদের কাছে ওয়াদা করেছিলাম, এ দুটি সমস্যা সমাধানে আমি উদ্যোগ গ্রহন করবো। জনগণ আমাকে ভালবাসে। বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও ধানের শীষকে ভালবাসে। তাই আমি শতভাগ নিশ্চিত এবার ধানের শীষের বিজয় হবে।

    ইসলামী আন্দোলন-জামায়াত দ্বন্দ্বে বিএনপির পালে হাওয়া:

    আসন ভাগাভাগি নিয়ে ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতের দ্বন্দ্বের সুফল যাবে বিএনপির ঘরে। এমনটাই ধারণা সাধারণ ভোটাররা। এ আসনে জামায়াতের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ভোট ব্যাংক রয়েছে ইসলামী আন্দোলনের (হাতপাখা)। দলটির শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছে বিগত ইউপি ও উপজেলা নির্বাচনে। হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে রামগতি-কমলনগরের বিভিন্ন ইউনিয়নে চমক সৃষ্টি করেছে দলটি। উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের টানা দুইবারের ইউপি চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ। ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর শেষ পর্যন্ত ঐক্য থাকলে আসনটি তাদের ঘরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি তাদের ঐক্য বিনষ্ট হয়, তাহলে সেই অবস্থান হারাতে হবে ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতকে। ফলে জিতে যাবে ধানের শীষ। শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হলে আসনটি বিএনপি দখলে চলে যাবে বলে বিভিন্ন এলাকা থেকে মিলছে এমন তথ্য।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের ঐক্য শেষ পর্যন্ত না টিকলে লক্ষ্মীপুর জেলার ৪ টি আসনের মধ্যে একটি আসনও ইসলামী জোট পাবে কিনা, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। যে সংশয় নিশ্চিত করছে এসব আসনে বিএনপি প্রার্থীদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা।

    প্রাপ্ত তথ্যমতে অতিতে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের একক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াত বিএনপির সমর্থন নিয়ে জামায়াত নেতা হুমায়ুন কবির ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ার রেকর্ড আছে দুই দলের। এর বাহিরে প্রভাবশালী এই দুইটি ইসলামী দলের তেমন কোন সফলতা না থাকলেও ব্যাপক ভোট ব্যাংক রয়েছে উভয় দলের। যাহা উনিশ বিশ বলা যায়। বিভিন্ন এলাকার সাধারণ ভোটাররা বলছেন, জামায়াত-চরমোনাইসহ ১১ দলের যে ঐক্য তা ছিল বিএনপির জন্য অশনিসংকেত। শেষ পর্যন্ত এই ঐক্য না থাকলে ধানের শীষের জয় ঠেকানো সম্ভব হবেনা কারও পক্ষে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, আমাদের আমির চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম প্রথম থেকেই বলেছেন ইসলাম ও দেশপ্রেমিক দল মিলে একটি ব্যালট বাক্স পাঠানোর কথা। যেখানে যে দলের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, সেখানে তারা প্রার্থী দেবে, তার পরও আমরা বলছি যে, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সবকিছুর নিষ্পত্তি হবে। আমরা এখনো আশাবাদী যে, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। উভয় দল ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

    জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি:

    এ আসনে রয়েছে দলটির নেতা আসম আব্দুর রবের বাড়ি। দলটির মুল ভোট ব্যাংক এখানে।জেএসডি কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি তানিয়া রব তারা মার্কা নিয়ে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।তাদের সম্মানজনক ভোট ব্যাংক হবে জয়পরাজয়ের মুল চাবি।রাজনৈতিক মহল মনে করছেন,আসম আব্দুর রবের জেএসডির একক ভোট দিয়ে জয়লাভ করা সম্ভব না হলেও দলটির বিপুল পরিমাণ ভোট যে,প্রার্থীর ঘরে যাবে,ওই প্রার্থীর বিজয় অনেকটা সহজ হবে।

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…