বরগুনার তালতলীতে উচ্চতা জটিলতায় পাঁচ বছরেও শেষ করতে পারেনি টেংরাগিরি ইকোপার্কে যাওয়ার একমাত্র সেতুটির নির্মাণ কাজ। এতে পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে ইকোপার্কটি।
স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আয়রন ব্রিজ পুননির্মাণ/পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের দক্ষিণা খালের ওপর (স্থানীয় নাম সোনাকাটা খাল) একটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। এ প্রকল্পে ৭২ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৭ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৯৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। সেতুটির উচ্চতা ধরা হয় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ থেকে ১০ ফুট। প্রক্রিয়া শেষে বরিশালের আমির ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পরে সেতুটির দুই পাড়ের অর্ধেক কাজ শেষ হওয়ার পরে নকশা জটিলতার কারণে সেতুর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সেতুর মাঝখানে ২৪ মিটার দৈর্ঘ্যর স্প্যানটি বসানো হয়নি আড়াই বছরেও। সেতুর নির্মাণ কাজ চলাকালীন সময়ে যোগাযোগের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এতে পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে টেংরাগিরি ইকোপার্কটি।
জানা গেছে, সেতুটি স্বাভাবিক জোয়ারের সময় পানির স্তর থেকে ১০ ফুট উচ্চতায় নির্মাণ করার কথা। কিন্তু ওই উচ্চতায় মাছ ধরার বড় ট্রলার চলাচল করতে পারবে না। এ কারণে সেতুটির দুই পাড়ের নির্মাণ কাজ শেষ করে মাঝখানে ২৪ মিটার দৈর্ঘ্যর স্প্যানটি নির্মাণ শুরুর আগে নকশা জটিলতার কারণে স্থানীয় জেলেদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় র্কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি নেভিগেশন আইন অনুসরণ করে নতুন নকশায় ব্রিজ নির্মাণকাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। নতুন নকশায় ব্রিজ নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এতে সরকারের বাড়তি খরচ হচ্ছে ৭৪ লাখ ৮৫ হাজার ৭১৫ টাকা।
টেংরাগিরি ইকোপার্কে ঘুরতে আসা পর্যটক মারুফা আক্তার বলেন, 'সেতু নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় খালটি ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়ে ইকোপার্কে ঢুকতে হয়। এতে আমাদের ভোগান্তি হয়। তাই আমাদের দাবি সেতুটি দ্রুত নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য।'
পরিবেশকর্মী ও পর্যটন উদ্যোক্তা আরিফুর রহমান বলেন, 'সেতুর নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় ইকোপার্কটি পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব কমে যাচ্ছে। দ্রুত সেতুটি নির্মাণ কাজ শুরু করার দাবি জানান তিনি।'
স্থানীয় ইউপি সদস্য টুকু সিকদার বলেন, 'টেংরাগিরি ইকোপার্কের খালের ওপর একটি লোহার ব্রিজ ছিল। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ব্রিজটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণ শুরু হয়। সেতুর উচ্চতা কম হওয়ায় স্থানীয় জেলেরা আপত্তি জানায়। কারণ সাগর ও খালের পানি বেড়ে যাওয়ার সময় এই সেতুর নিচ দিয়ে কোনো ট্রলার বা নৌযান চলাচল করতে পারবে না। পরে স্থানীয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নির্মাণ কাজ স্থগিত করে দেয়া হয়। সেতুটির কাজ অসমাপ্ত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এখানে আসা পর্যটক ও স্থানীয় মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।'
আমির ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের পরিচালক আমির হোসেন বলেন, 'নকশা অনুযায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে মাছ ধরার ট্রলার চলাচল করতে পারবে না। তাই স্থানীয় জেলেদের দাবির প্রেক্ষিতে সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। তাই নকশা সংশোধন করে ফের অনুমদন দেওয়া হয়েছে। অল্পদিনের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।'
সোনাকাটা ইউপি চেয়ারম্যান ফরাজী মো. ইউনুচ বলেন, 'ঠিকাদার ও এলজিইডির পরিকল্পনায় ভুল ছিল। সেই ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।'
তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'উচ্চতা জটিলতার কারণে সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ ছিলো। পুনরায় সংশোধিত নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই ঠিকাদার কাজ শুরু করবেন।'
এসআর