ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযান এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট দেশ ‘বিশ্বের বিচারক’ বা ‘বিশ্বের পুলিশ’ হিসেবে কাজ করবে—এমনটি তারা কখনোই মেনে নেবে না।
সোমবার (০৫ জানুয়ারি) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র এই হুঁশিয়ারি বার্তা প্রকাশ করা হয়।
রবিবার বেইজিংয়ে পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে এক বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত হওয়া উচিত। সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করলেও ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তার এই মন্তব্যকে ওয়াশিংটনের প্রতি একটি কঠোর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন বোমা ও বিমান হামলার পর ৬৩ বছর বয়সী মাদুরোর চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরা ছবি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির পরিপন্থী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বর্তমানে নিকোলাস মাদুরো নিউইয়র্কের একটি আটক কেন্দ্রে রয়েছেন এবং মাদক পাচারের অভিযোগে তাকে আজই আদালতে তোলার কথা রয়েছে। চীনের সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, মাদুরোর এই গ্রেপ্তার বেইজিংয়ের জন্য একটি বড় ধাক্কা, কারণ তারা ভেনেজুয়েলার অত্যন্ত ‘নির্ভরযোগ্য বন্ধু’ হিসেবে দীর্ঘকাল ধরে পাশে ছিল। এমনকি মাদুরোকে আটকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও চীনের বিশেষ প্রতিনিধি কিউ জিয়াওকির সঙ্গে তার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে চীন দেশটির জন্য একটি বড় অবলম্বন হিসেবে কাজ করে আসছিল। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ভেনেজুয়েলার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর থেকে বেইজিংই মূলত দেশটির অর্থনীতিকে সচল রেখেছে।
তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে চীন ভেনেজুয়েলা থেকে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য ক্রয় করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক পুনর্মিলনের মধ্যস্থতা করার পর বেইজিং বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের একটি ‘হেভিওয়েট’ কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এমন পরিস্থিতিতে ল্যাটিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা সামরিক হস্তক্ষেপকে চীন তাদের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচনা করছে।
সূত্র: রয়টার্স।
এমআর-২