পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি কালভার্টের ঢালাই মাত্র একদিনের মধ্যে খসে পড়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন, উপজেলা প্রকৌশলীর অবহেলা ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে তড়িঘড়ি কাজ করায় কালভার্টটির দেয়াল ভেঙে গেছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের পানপট্টি ও সেন্টার বাজারের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে সতীরাম খালের ওপর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল কালভার্টটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ।
গত ৫ জানুয়ারি সকালে ৩×৩ মিটার দৈর্ঘ্যের কালভার্টটির দেয়ালে ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় তড়িঘড়ি করে ঢালাই দিয়ে শ্রমিকরা চলে যান। পরেরদিন সকালে দেখা যায়, সেন্টারিং খুলতে গিয়ে কালভার্টটির দেয়াল খসে পড়েছে। এ ঘটনায় কাজের মান নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মজিবর গাজী বলেন, “কাজ শুরুর পর থেকেই নানা অনিয়ম চোখে পড়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও যথাযথ তদারকির অভাবের কারণেই কালভার্টটির ঢালাই খসে পড়েছে।”
অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিন ট্রেডার্সের মালিক মো. রফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো অনিয়ম করিনি। এলজিইডির ইস্টিমেট ও নিয়ম অনুযায়ীই কাজ করা হয়েছে। প্রতিটি ঢালাইয়ের সময় সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার উপস্থিত ছিলেন।”
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করব। কাজের ক্ষেত্রে ভুল হতে পারে, যা ঠিক করা হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভেঙে পড়া অংশ পুনরায় ঢালাই করে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হবে।”
তবে এলাকাবাসীর দাবি, “নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়ম চলতেই থাকবে।”
এনআই