ভোলার লালমোহনে অটোরিকশা চালক আবু বক্কর সিদ্দিক (৫০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এ ঘটনায় জড়িত মূল আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও একাধিক মোবাইল ফোন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ভোলার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস বিফ্রিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. ইব্রাহিম (৩৬), রাজা মিয়া (৩২) এবং কাজী তারেক (৩৫)। তারা সকলে শশিভূষণ থানা এলাকার বাসিন্দা এবং আন্তঃজেলা ডাকাতদলের সক্রিয় সদস্য। তাদের নামে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার পর পুলিশের একটি চৌকস টিম তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত মূল আসামি ইব্রাহিমকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোঃ রাজা (৩২) ও কাজী তারেক (৩৫) নামের আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু এবং ০৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে যাত্রী সেজে আবু বক্কর সিদ্দিককে নির্জন এলাকায় নিয়ে হত্যা করে আসামীরা। হত্যার পর তার অটোরিকশাটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এই কাজে তাদের সঙ্গে ৭ জন জড়িত ছিলো বলে প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদে স্বীকার করেছে।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ, গেল ৩০ ডিসেম্বর রাতে আবু বক্কর সিদ্দিক নামের এক অটোরিকশা চালককে কুপিয়ে হত্যা করে তার অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিয়ে দুর্বৃত্তরা। পরে গেল পহেলা জানুয়ারি নিহতের ছেলে সুলতান আলী বাদী হয়ে লালমোহন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এসআর