পাবনার চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক প্রতিরোধক অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে এ সংকট চললেও সমাধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। টাকা দিয়েও উপজেলার কোনো ফার্মেসিতে এই ভ্যাকসিন মিলছে না। এতে উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, কুকুর বা বিড়ালের কামড়ের পর দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন যে তাদের কাছে কোনো অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন নেই। এরপর তারা প্রেসক্রিপশন দিয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে নিতে বলছেন। কিন্তু বাইরের কোনো ফার্মেসিতেই ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। ফার্মেসিগুলো জানাচ্ছে, কোম্পানির সাপ্লাই নেই। এমন পরিস্থিতিতে কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী জুয়েল নামের এক অভিভাবক জানান, গত সপ্তাহে তার পাঁচ বছরের মেয়েকে কুকুর কামড় দেয়। তিনি সঙ্গে সঙ্গে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে কোনো অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন নেই। এরপর পুরো চাটমোহর উপজেলায় ফার্মেসিতে খোঁজ করেও একটি ভ্যাকসিন পাননি। পরে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে নাটোরের গুরুদাসপুর থেকে চারটি ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেন।
অপর এক অভিভাবক জানান, পাঁচ দিন আগে তার মেয়েকে বিড়াল কামড়িয়েছে। চাটমোহর উপজেলা ও পাবনা শহরের বিভিন্ন ফার্মেসিতে খোঁজ করেও কোথাও এক পিস ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে মেয়েকে নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
এ বিষয়ে পলাশ ফার্মেসির মালিক মাহবুবুল আলম জানান, বেশ কিছুদিন ধরে কোনো কোম্পানি অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ করছে না। ফলে অনেক মানুষকে আমরা ভ্যাকসিন দিতে পারছি না। তারা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক (আরএমও) ডা. মো. হুমায়ূন কবির বলেন, বর্তমানে আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন নেই। কিছুদিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে পৌরসভার সহযোগিতায় ৩০০ পিস ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছিল, সেগুলোও শেষ হয়ে গেছে। তবে যতটুকু জানা গেছে, খুব শিগগিরই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।
এনআই