কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার খলিশাকোটাল সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করে ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃক পাকা রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে দফায় দফায় পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পতাকা বৈঠকে বিজিবির তীব্র প্রতিবাদের মুখে নির্মানকাজ সাময়িক স্থগিত করেছে বিএসএফ। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে ভারতীয় মেঘ নারায়ণের কুঠি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার করলা এলাকায় কুর্শাহাট-টু-দিনহাটা পাকা রাস্তার কাজ শুরু করলে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে বালারহাট বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা বাধা প্রদান করে। এসময় বিজিবি- বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় জনগন লাঠিসোঁটা নিয়ে বিজিবির সাথে অবস্থান নেয়। এর আগে বিকাল তিনটার দিকে ১ম দফা রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করলে বিজিবি বাধা প্রদান করে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানায়।
দুপুরে ওই সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন ৯৩৪ এর পাশে বিজিবি- বিএসএফ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে বিএসএফ রাস্তার কাজ বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়।
কিন্তু বিজিবির টহলদল সীমান্ত থেকে চলে গেলে বিকাল চারটার দিকে আবারও বিজিবির বাঁধা উপেক্ষা করে নির্মাণ কাজ শুরু বিএসএফ।
পরে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধের মুখে ঘটনাস্থলে ২য় দফা পতাকা বৈঠকের আহব্বান জানায় ভারতীয় বিএসএফ।
এসময় সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৩৪ এর সাব পিলারের ১ এসের পাশে ভারতীয় নোম্যান্সল্যান্ডে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন লালমনিরহাট -১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন বালারহাট বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার আবু তাহের। ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার মেঘ নারায়ণের কুঠি ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর দীপক কুমার। স্বল্প সময়ের বৈঠকে আগামী ১৩ জানুয়ারী অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে একমত হয়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ সাময়িক বন্ধ রাখে বিএসএফ।
বিজিবি সুত্রে জানা গেছে, খলিশাকোটাল সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৯৩৪ এর ১ নং সাব পিলার থেকে ১১ নং সাব পিলার পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার জায়গা কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার করলা এলাকায় কুর্শাহাট-টু-দিনহাটা যাওয়ার প্রধান সড়ক। সীমান্তঘেষা ভারতীয় এই সড়কটির ১ কিলোমিটার জায়গা শুন্য লাইন থেকে কোথাও ৭০ গজ, কোথাও ৫০-৬০ গজ আবার কোথাও ১০০ থেকে ১২০ গজের মধ্যে অবস্থিত। আন্তর্জাতিক সীমানা আইন অনুযায়ী শুন্য লাইন থেকে উভয় দেশের ১৫০ গজের মধ্যে কোন প্রকার পাকা স্থাপনা নির্মানের নিয়ম নেই। কিন্তু সেই আইন অমান্য করে বিএসএফ পাকা সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করে।
সীমান্তবাসী মজিবর রহমান, উমর আলী মন্টু সহ স্থানীয়রা জানান, গত তিন চার দিন থেকে সীমান্তঘেষা ১ কিলোমিটার পরাতন সড়কটির পাশে পূর্ব দিকে নতুন করে পাকা সড়ক নির্মাণ করে আসছে ভারতীয় বিএসএফ। তারা রাতের-আধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বালারহাট বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা বাধা দিলেও ভারতীয় বিএসএফ সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ করেনি। আজ আমরা এলাকাবাসী বিজিবিকে সহযোগিতা করে রাস্তা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। এ ঘটনায় দুইবার পতাকা বৈঠক হয়েছে। কিন্তু সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখলেও রাতের আধারে কাজ আশংকা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন বালারহাট বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার আবু তাহের জানান, বৈঠকে চলাকালীন উভয় দেশের অধিনায়ক পর্যায়ে ফোনালাপ হয়েছে। ১৩ জানুয়ারীর আগে বিএসএফ আর কাজ করবেনা বলে সম্মত হয়েছে। ১৩ জানুয়ারী অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এফএস