সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল জুড়ে গত কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে কাঁপছে জনজীবন। এতে কাজে যেতে পারছে না বহু মানুষ, দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষি শ্রমিক ও ছিন্নমূল মানুষ।
অনেকে আয়ের ক্ষতি ও রোজগারে ঘাটতি অনুভব করছেন। অপরদিকে শীতজনিত রোগের সংখ্যা বাড়ছে, শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালগুলোতেও রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, শীতে শিশু ও বয়স্করা সর্দি-কাশি, জ্বরসহ বিভিন্ন ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শীতজনিত রোগে জেলার ১২ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ বেড়েছে।
জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক, দোয়ারা বাজার, দিরাই, শাল্লা, জগন্নাথপুরসহ সীমান্তবর্তী হাওরাঞ্চলগুলোতে শীতের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হচ্ছে।
সকালবেলা কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে যান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। অনেক জায়গায় যানবাহন ধীরগতিতে চলতে দেখা গেছে।
হাওরাঞ্চলের মানুষ জানিয়েছেন, রাতে ঘুমানোও কষ্টকর হয়ে উঠেছে বাতাসের কারণে। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় দরিদ্র পরিবারগুলো চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। জেলা শহরে সমাজসেবা মূলক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীরা শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন, তবে প্রয়োজনের তুলনায় শীতবস্ত্রের সরবরাহ এখন অপ্রতুল।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন শীতের এই অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে। তাই সবাইকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শীতকালে শিশু ও বয়স্কদের উষ্ণ রাখার পাশাপাশি নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া গরম কাপড় ব্যবহার, কুয়াশা এড়িয়ে চলা এবং ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সৈতক দাস বলেন, “শীতে শিশুদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকের খাচা বা জ্বর বেশি হলে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে। বয়স্ক ও শিশুদের গরম কাপড় পড়িয়ে, কুয়াশা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, “গ্রামের বসত বাড়িতে টান্ডা বেশি থাকে, তাই শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অভিভাবকের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। ঘর উষ্ণ রাখা ও শিশুর মাথায় টুপি পড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।”
এনআই