চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় কৃষিজমিতে যাতায়াত ও স্থানীয়দের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত একটি পুরোনো গ্রামীণ সড়ক দখল করে প্লাস্টিকের বেড়া স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। সড়কটি উন্মুক্ত করতে বললে ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকাবাসীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন উপজেলার ৬ নম্বর বারখাইন ইউনিয়নের পূর্ব বারখাইন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. শামসুল আলম (৬০)।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে শামসুল আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা হাফেজ রমজান আলী গ্রামীণ সড়কের ওপর খুঁটি পুঁতে প্লাস্টিকের বেড়া দিয়ে পুরো পথটি বন্ধ করে দেন। ফলে স্থানীয় কৃষকসহ অন্তত অর্ধশতাধিক পরিবারের চলাচল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটিতে বর্তমানে কোনো যানবাহন চলাচল না করলেও এটি এলাকাবাসীর দৈনন্দিন হাঁটাচলার গুরুত্বপূর্ণ পথ। স্থানীয় কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমিতে যাতায়াত, ফসল আনা–নেওয়া এবং কৃষিকাজে এই সড়কটি ব্যবহার করে আসছেন। সড়কটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষসহ কৃষকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এলাকাবাসীর পক্ষে রেজাউল হক নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এলাকাবাসী একাধিকবার শামসুল আলমকে রাস্তা উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানালে তিনি ধারালো দা ও কিরিচ হাতে নিয়ে মারমুখী অবস্থান নেন। এ সময় তিনি অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং রাস্তা খুলতে এলে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তহসিল অফিস থেকে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে বেড়া অপসারণের অনুরোধ জানালে অভিযুক্ত পুনরায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
তিনি উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ করে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘বেড়ায় হাত দিলে হাত কেটে ফেলবো।’ এ সময় তার স্ত্রীও নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল উদ্দীন বলেন, ‘রাস্তাটি প্রায় ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে এখানকার অর্ধশতাধিক পরিবার ব্যবহার করে আসছে। এটি কৃষিজমিতে যাতায়াত এবং মাজারে যাওয়ার একমাত্র পথ। এটি কারও ব্যক্তিগত রাস্তা নয়। এর আগেও ওই বৃদ্ধ দম্পতি একাধিকবার রাস্তা বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন।’
চাকুরিজীবী মো. মোরশেদ বলেন, ‘প্রতি শুক্রবার নামাজ শেষে এই সড়ক ধরে মাজারে যাই। প্রতিদিন চলাচলের জন্যও এটি ব্যবহার করি। সরকারি উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার করা হলেও অভিযুক্তের স্ত্রী সড়কের ইট খুলে নিয়ে যান। শামসুল পরিবারের কারণেই আমাদের চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযোগকারী মো. রেজাউল হক বলেন, ‘এই সড়ক ঘিরে অন্তত ৫০টিরও বেশি পরিবার কৃষিকাজসহ নানা প্রয়োজনে চলাচল করে। কিন্তু শামসুল আলম নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য জোরপূর্বক রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চাই।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শামসুল আলমের ছেলে মিজানের মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, ’বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য তহসিলদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সড়কটি সরকারি কি না এবং রেকর্ডে রয়েছে কি না তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
এফএস