কুয়েতে কর্মরত বাংলাদেশি যুবক জামাল মাতুব্বরের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি কুয়েতের আহমেদী জেলার অপেরা ফার্ম হাউজে কর্মস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবরে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার নিজ গ্রামে নেমে আসে গভীর শোক।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় জামাল মাতুব্বরের মরদেহ তার গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ সময় স্বজন ও এলাকাবাসীর চোখে ছিল অশ্রু।
নিহত জামাল মাতুব্বর ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রাহুতপাড়া গ্রামের মৃত হামেদ মাতুব্বরের ছেলে। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে প্রায় আট বছর আগে কুয়েতে পাড়ি জমান জামাল মাতুব্বর। সেখানে নিয়মিত কাজ করছিলেন তিনি। তিন বছর আগে একবার ছুটিতে দেশে আসেন। আগামী ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে আবার দেশে ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু প্রবাস থেকে আর জীবিত ফেরা হলো না—ফিরলেন লাশ হয়ে।
নিহতের স্ত্রী কাকোলি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার কাছে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের জন্যই তাকে হত্যা করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা এই কাজ করেছে, তারা তার পরিচিত মানুষ বলেই আমাদের ধারণা।” তিনি কুয়েতে বাংলাদেশি দূতাবাসের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
তালেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা ও কুয়েতপ্রবাসী মুন্নু ফকির বলেন, তিনি ডিসেম্বর মাসে ছুটিতে দেশে আসেন। জামাল যেখানে কাজ করতেন, সেখান থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে তিনি অবস্থান করতেন। “পহেলা জানুয়ারি ফোন পেয়ে জানতে পারি, জামাল আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। কুয়েতের ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। পরে পুলিশের মাধ্যমে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়,” বলেন তিনি।
ময়নাতদন্ত শেষে, কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় মঙ্গলবার জামাল মাতুব্বরের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করে নিজ গ্রামে এনে দাফন সম্পন্ন করেন।
এলাকাবাসী ও স্বজনরা জামাল মাতুব্বরের মৃত্যুর ঘটনায় কুয়েতে বাংলাদেশি দূতাবাসের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এনআই