ভোলার পশ্চিম ইলিশায় দীর্ঘ সাত মাস আগে নিখোঁজ হওয়া এক গৃহবধূ হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্বামী আবদুল মালেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সোহান সরকার।
গ্রেপ্তারকৃত আবদুল মালেক ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের পাঙ্গাশিয়া গ্রামের মৃত আবদুল মুনাফ মিয়ার ছেলে। নিহত গৃহবধূ জহুরা খাতুন (২৭) তাঁর প্রথম স্ত্রী। তাঁদের সংসারে ৪ ছেলে ও ১ মেয়েসহ মোট ৫টি সন্তান রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গত বছরের ১৭ জুলাই রাত সাড়ে ৩টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে নিজ ঘরে জহুরা খাতুনকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মালেক। এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরদেহ বাড়ির সামনের পুকুরে ফেলে দেন।
পুলিশ আরও জানায়, পেশায় কৃষক মালেকের সঙ্গে পারিবারিক কলহ ও আর্থিক সংকট নিয়ে জহুরার দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। এর মধ্যে মালেক গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে মালেক দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিলেও ব্যক্তিগতভাবে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হন। ঘটনার দিন রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। রাতে স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়লে সেই সুযোগে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মালেক।
প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবে সামনে এলেও জেলা পুলিশের একটি বিশেষ তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে সাত মাস পর হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করে। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল মালেক নিজের স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত মালেককে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এনআই