পাবনার ঈশ্বরদীতে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়ে স্বামীর হাতে আটক হয়েছেন পিঞ্জিরা খাতুন নামে এক গৃহবধূ।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে পৌর শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় পরকীয়া প্রেমিক মো. মাসুদ দৌড়ে পালিয়ে যান।
আটক পিঞ্জিরা খাতুন যশোর জেলার বকচর গ্রামের মো. রাহাত হোসেনের স্ত্রী।
জানা গেছে, পালিয়ে যাওয়া প্রেমিক মাসুদ গৃহবধূর স্বামী রাহাতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। প্রায় এক বছর আগে মাসুদ ব্যক্তিগত হতাশায় ভুগে আত্মহত্যা করতে গেলে বন্ধু রাহাত তাঁকে নিজের বাসায় নিয়ে আশ্রয় দেন। সেখানে থাকাকালীন বন্ধু রাহাতের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন মাসুদ। এর জের ধরে গত দেড় মাস আগে পিঞ্জিরা খাতুন তাঁর স্বামী রাহাতকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে ঘর ছাড়েন। নিখোঁজের আট দিন পর রাহাত জানতে পারেন তাঁর স্ত্রী ঈশ্বরদীতে অবস্থান করছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে ঈশ্বরদী ঈদগাহ রোড এলাকায় রিকশায় ঘোরাঘুরির সময় রাহাত নিজ চোখে তাঁদের দেখে ফেলেন এবং স্ত্রীকে আটকে ফেলেন। এ সময় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।
এদিকে স্বামী রাহাতের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে পিঞ্জিরা খাতুন বলেন, “ছোটখাটো বিষয়ে সে আমাকে মারধর করে। তাই আমি এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। আমি আমার ৩ বছরের সন্তানের কাছে ফিরতে চাইলেও স্বামীর কাছে আর ফিরে যাব না।”
অন্যদিকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বামী রাহাত হোসেন। তিনি বলেন, “মাসুদ আমার বন্ধু ছিল। তাকে আমি বিপদের সময় আশ্রয় দিয়েছিলাম, আর সে আমার স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া করে পালিয়ে এসেছে। আমার ৩ বছরের বাচ্চাটি মায়ের জন্য কান্নাকাটি করছে। আমি আমার বাচ্চার ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্ত্রীকে এখনো ফিরিয়ে নিতে চাই।”
ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জামাল উদ্দিন বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে স্বামী-স্ত্রী দুজনকে থানায় আনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। গৃহবধূর পরিবারের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়েছে; তাঁরা এলে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
এনআই