জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সূচনা বক্তব্যসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। অপর দুই সদস্য–বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন প্রথমে দুই আসামির অব্যাহতি চাওয়া আইনজীবীদের আবেদন খারিজ করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে তাদের বিরুদ্ধে আনা প্রসিকিউশনের তিনটি অভিযোগ পড়েন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ। এরপর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এর মাধ্যমে এ মামলার বিচার শুরু হলো। এ ছাড়া সূচনা বক্তব্যসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
জুনায়েদ আহমেদ পলককে তার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনানোর সময় বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়েছে তা মিথ্যা। আমি নির্দোষ।
জয়ের আইনজীবী জানান, ইন্টারনেট বন্ধের ক্ষেত্রে জয়ের কোনো আদেশ বা হস্তক্ষেপ ছিল না। তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ প্রসিকিউশন দেখাতে পারেনি। তবুও ট্রাইব্যুনাল ফরমাল চার্জগ্রহণ করেছেন। এর আগের কোনো মামলাতেই দাবি করা হয়নি, ইন্টারনেট বন্ধের কারণে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে। কাজেই এ অভিযোগ ভিত্তিহীন।
পলকের আইনজীবী বলেন, তার জন্য বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের জন্য আমাদের আবেদন মঞ্জুর করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্র প্রস্তুতের মতো কোনো সাক্ষ্য প্রমাণাদি প্রসিকিউশন আনতে পারেনি। ইন্টারনেট কখনোই বন্ধ হয়নি। ওই সময় বিটিআরসির চেয়ারম্যান তাকে যে ডাটা সেন্টার পোড়ানোর কথা জানিয়েছিলেন সেই বরাতেই তিনি মিডিয়াতে ওই কথা বলেছিলেন বলেও জানান আইনজীবী।
এ মামলায় দুই আসামির মধ্যে গ্রেফতার আছেন পলক। তাকে সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অপর আসামি জয়ের পক্ষে আইনি লড়াই করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম।
এইচএ