যমুনা বিধৌত সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় সম্প্রতি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা বেড়েছে। গত কয়েকদিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ চোরচক্র একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা চালিয়েছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জানুয়ারি মাঝ রাতের যে কোন সময় উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের সূর্বনতলী এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। উপজেলার সুর্বনতলী বাজার সংলগ্ন নতুন বাজার এলাকা থেকে দুটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যায় চোরচক্র।
এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল বুধবার মাঝ রাতে ওই এলাকা থেকে আবারও ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা চালায় চোরেরা। এসময় স্থানীয় বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বশির প্রকৃতির ডাকে বাইরে বের হলে ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি টের পায়। চোরদের দেখতে পেয়ে চোর চোর বলে ডাক চিৎকার করলে চোরেরা ট্রান্সফরমার রেখেই পালিয়ে যায়। পরপর এমন ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকন্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের আধারে ট্রান্সফরমার চুরির কারণে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। এতে দৈনন্দিন জীবনযাপন, কৃষিকাজ ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ।
সচেতন মহল মনে করছেন, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এ ধরনের চুরি আরও বাড়তে পারে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধানের দাবিও জানিয়েছেন তারা ।
নাগরপুর জোনাল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি ঠেকাতে আমরা গ্রাহক পর্যায়ে নিয়মিত আলোচনা ও মাইকিং করছি। বিভিন্ন আইনশংঙ্খলা মিটিংয়ে বিষয়টি উপস্থাপন করে জন সচেতনতা বৃদ্ধি করছি। চৌহালী থানার ওসি মো. মতিউর রহমান বলেন, আমরা চেষ্টা করছি। আমাদের রাতে পুলিশি টহল জোরদার করছি। কিন্তু ঘন কুয়াশা সুযোগ নিয়ে চোরেরা এ ঘটনা ঘটাচ্ছে। তবে স্থানীয়দেরও একটু সচেতন থাকতে হবে বলেও জানান তিনি।
এসআর