ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনের প্রার্থীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দে এ আসনে বিএনপি সমর্থিত, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসু’র সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর পেয়েছেন দলীয় ‘ট্রাক’ প্রতীক। তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদসহ দল থেকে বহিস্কৃত নেতা হাসান মামুন পেয়েছেন ‘ঘোড়া’ প্রতীক। এছাড়া, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১০ দলীয় জোট প্রার্থী অধ্যাপক মু. শাহ আলম পেয়েছেন ‘দাড়িপাল্লা’ প্রতীক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মুফতি আবু বকর সিদ্দিক পেয়েছেন ‘হাতপাখা’ প্রতীক।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে জেলা রিটার্নিং অফিসারের আয়োজনে এই প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট চারটি আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ (বিপিএম সেবা), উপপরিচালক (উপসচিব), স্থানীয় সরকার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) জুয়েল রানা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ তারেক হাত্তলাদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ উল আলম, সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার ওহিদুজ্জামান মুন্সীসহ বিভিন্ন উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাবৃন্দ ও প্রার্থীরা।
অনুষ্ঠানে রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, প্রতীক হাতে পাওয়ার পরদিন বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকেই প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে পারবেন। তবে সবাইকে অবশ্যই নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে হবে এবং কেউ কারও বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য বা আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে। ইসি ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পাশাপাশি একই দিনে ভিন্ন ব্যালটে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-৩ আসনটি এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্যতম আলোচিত আসনে পরিণত হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আসনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হলো। এই আসনে গলাচিপা ও দশমিনায় দুই উপজেলা, একটি পৌরসভা এবং ১৯টি ইউনিয়ন। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৮৭১। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ২০, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৮। মোট ভোটকেন্দ্র ১২৪টি, এরমধ্যে গলাচিপায় ৮০ টি ও দশমিনায় ৪৪টি , তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র এখনও চূড়ান্ত হয়নি। নদী ও চরবেষ্টিত এলাকা থাকার কারণে এই আসনের কিছু জায়গা ভোটের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। গলাচিপার চরবিশ্বাস, চরখালী, বকুলবাড়িয়া এবং দশমিনার আলীপুরা, বাঁশবাড়িয়া, রণগোপালদী এলাকায় শীতকালীন কুয়াশা, নৌযান নির্ভর যোগাযোগ এবং দুর্বল ইন্টারনেট সমস্যা ভোট পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সময়মতো ভোট সামগ্রী পৌঁছানো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কুয়াশা ও যাতায়াত সমস্যা ভোটার উপস্থিতি কমাতে পারে।
এসআর