ইফতারিতে খিচুড়ি, হালিম বা অন্য ভারী খাবার থাকলেও অনেকেই ভাজা আইটেম ছাড়া ইফতার কল্পনাই করতে পারেন না। কিন্তু টানা এক মাস প্রতিদিন ভাজাপোড়া খাওয়ার অভ্যাস শরীরের ভেতরে নীরবে নানা পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
চলুন জেনে নেই একটানা এক মাস ভাজাপোড়া খেলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
হজমে সমস্যা: তেলেভাজা খাবার হজমে সময় নেয়। নিয়মিত ভাজাপোড়া খেলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। খাবার খাওয়ার পর বুক জ্বালাপোড়া বা গলায় খাবার উঠে আসছে এমন অনুভূতি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
দীর্ঘদিন এ অভ্যাস বজায় থাকলে পাকস্থলীর প্রদাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে। যাদের আগে থেকেই হজমজনিত সমস্যা আছে, তাদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।
ফ্যাটি লিভারের ঝুকি: চর্বি শুধু পেটের ওপরেই জমে না, রক্তে এবং রক্তনালির দেয়ালেও জমা হতে থাকে। লিভার ও পেটের ভেতরের অঙ্গগুলোর আশপাশেও চর্বি জমতে পারে। এভাবেই তৈরি হয় ফ্যাটি লিভার রোগের ঝুঁকি।
হৃদরোগের ঝুকি: রক্তনালির ভেতরে চর্বি জমতে জমতে তা সংকুচিত হলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। একইভাবে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে স্ট্রোকের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। অর্থাৎ এক মাসের অবহেলা হয়তো সঙ্গে সঙ্গে বড় অসুখ তৈরি করবে না, কিন্তু শরীরে এমন পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক হতে পারে।
ঝুকি এড়াতে করণীয়: ইফতারে বেগুনি, পেঁয়াজু বা অন্য ভাজাপোড়া একেবারে নিষিদ্ধ এমন নয়। তবে প্রতিদিন বড় পরিমাণে খাওয়ার বদলে সপ্তাহে এক-দুদিন সীমিত পরিমাণে রাখাই ভালো। বরং ইফতারের প্লেটে রাখুন চিড়া বা হালকা শর্করাযুক্ত খাবার, টক দই, তাজা ফল, সবজির সালাদ, পর্যাপ্ত পানি বা লেবু-পানি। এগুলো শরীরে শক্তি জোগাবে, পানির ঘাটতি পূরণ করবে এবং হজমেও সহায়ক হবে।
ভাজাপোড়া খাবার স্বাদে অনন্য এ নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু টানা এক মাস প্রতিদিন এ ধরনের খাবার খেলে শরীরের ভেতরে শুরু হতে পারে নানামুখী পরিবর্তন। একটু সচেতন সিদ্ধান্তই আপনাকে রাখতে পারে ফিট, সতেজ ও সুস্থ।
এইচএ