জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, জাতীয় পার্টি ‘না’ ভোটের ক্যাম্পেইনের মধ্য দিয়ে আবারও তাদের ফ্যাসিবাদী চরিত্র জাতির সামনে নগ্নভাবে প্রকাশ করেছে। তারা যতই ‘না’ ভোটের কথা বলুক না কেন, জনগণ তা গুরুত্ব দেবে না। বরং জনগণ গণভোটকে নয়, জাতীয় পার্টিকেই ‘না’ করে দেবে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, “জাতীয় পার্টি ফ্যাসিবাদের দোসর ছিল এবং স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেশ পরিচালনায় গৃহপালিত প্রতিনিধির ভূমিকা পালন করেছে। সেই মানসিকতা থেকেই তারা গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কারণ তারা চায় না দেশ প্রতিবাদী ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র কাঠামোর দিকে অগ্রসর হোক।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডগুলো পরিস্থিতির অবনতিরই বহিঃপ্রকাশ। যারা ফ্যাসিবাদের দোসর ছিল এবং গণহত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা গেলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো। এ কারণেই আমরা পুলিশ বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর কথা বলেছিলাম।”
নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকতে হবে, যাতে তারা যেকোনো পরিস্থিতি সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে।
আখতার হোসেন আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গত ৫৪ বছর ধরে নিপীড়নমূলক রাষ্ট্র কাঠামোর ভেতর দিয়ে গেছে। তারা একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার বাইরে এসে একটি অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে। সেই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান জুলাই সনদের মধ্যেই রয়েছে। তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া প্রয়োজন।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের ভয়ভীতি ও অর্থের প্রলোভন উপেক্ষা করে সত্য সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
এর আগে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে দলের প্রতীক গ্রহণ করেন।
এনআই