এইমাত্র
  • পদত্যাগ নিয়ে বিভ্রান্তি, মুখ খুললেন আইজিপি
  • মাদুরোকে অপহরণে অ্যানথ্রপিকের এআই ‘ক্লড’ ব্যবহার
  • তারেক রহমানের শপথে আসছেন ভারতের স্পিকার-পররাষ্ট্র সচিব
  • নাহিদ-সারজিসকে বুকে টেনে নিলেন তারেক রহমান
  • নতুন সরকারের নির্দেশনা পেলে ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান
  • ১৪ দিনে এলো ১৬৫১৯ কোটি টাকার প্রবাসী আয়
  • শফিকুর রহমানের বাসায় তারেক রহমান
  • নাহিদের বাসায় তারেক রহমান
  • দেশে নির্বাচন পরবর্তী কোনো সংখ্যালঘু নির্যাতন ঘটেনি: প্রেস সচিব
  • ফের পেছালো হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ
  • আজ সোমবার, ২ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    পরকীয়া প্রেমিকার সাথে মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের কর্মচারী আটক

    নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৬ এএম
    নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৬ এএম

    পরকীয়া প্রেমিকার সাথে মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের কর্মচারী আটক

    নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৬ এএম


    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয় কর্মরত হিসাব সহকারী কাম ক্রেডিট সুপারভাইজার সাইফুল ইসলামকে নিজের ভাড়া বাসায় পরকীয়া প্রেমিকার সাথে আটক করেছেন তারই স্ত্রী সখিনা খাতুন। 


    শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) বিকাল ৪টার দিকে পৌর শহরের সবুজপাড়া এলাকায় এক ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। সেই বাসায় পরিবারসহ ভাড়া থাকতেন সাইফুল ইসলাম।


    পরকীয়া প্রেমিকার নাম যুথি বেগম। তিনি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আওতাধীন কিশোর কিশোরী ক্লাব প্রকল্পে দেবীগঞ্জ উপজেলায় আবৃত্তি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি বোর্ডিং পাড়া এলাকার মোশারফের স্ত্রী।


    সখিনা বেগম ও স্থানীয়রা জানায়, সাইফুল ও সখিনা দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। যুথির সাথে পরকীয়ায় জড়ানোর পর থেকেই সখিনাকে প্রায়ই মারধর করতেন সাইফুল। শনিবার বিকেলে সাইফুল যুথিকে তার ভাড়া বাসায় ডেকে আনেন। যুথি আসার পর সাইফুল তার স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এই সময় সখিনাকে জোর করে ঘরের বাইরে বের করে দিলে সখিনা দরজায় তালা লাগিয়ে দিয়ে থানায় চলে যান। এরই মধ্যে এলাকাবাসী বিষয়টি জানতে পেরে সেখানে জড়ো হতে থাকে। মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। সখিনা থানায় গিয়ে দেবীগঞ্জ থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাইফুল ও যুথিকে তাদের হেফাজতে থানায় নিয়ে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশ আসতে দেরী করলে সাইফুল-যুথিকে স্থানীয় নারী-পুরুষরা গণপিটুনি দিতেন।


    এইদিকে থানায় আনার পর যুথি জানান, এত কিছু হওয়ার পর তিনি আর সংসারে ফিরে যেতে পারবেন না। সাইফুলকে তিনি বিয়ে করতে চান। সাইফুলও এই সময় তার স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে যুথিকে বিয়ে করবেন বলে জানান। 


    সখিনা বেগমের দাবি, এর আগেও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় থাকতে পরকীয়ায় জড়ান সাইফুল। সেবারও সেখানে এই নিয়ে শালিস হয়। পরে সেখান থেকে দেবীগঞ্জে বদলী করে দেওয়া হয় সাইফুলকে। দেবীগঞ্জে এসে পুনরায় পরকীয়ায় জড়ান সাইফুল।


    তিনি আরও বলেন, এর আগে সাইফুল না জানিয়ে দুইটি বিয়ে করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরে সেই দুই স্ত্রীকে তালাক দেন সাইফুল। এভাবে যেখানেই যান সেখানেই নারী কেলেঙ্কারিতে জড়ান তিনি। শুধু পরকীয়া নয় বরং প্রায় সময় টাকার জন্য সখিনাকে চাপ দিতেন ও মারধর করতেন বলেও জানান তিনি।


    এই ঘটনায় সখিনা বেগম বাদী হয়ে সাইফুল ও যুথিকে আসামী করে শনিবার রাতে দেবীগঞ্জ থানায় এজাহার দাখিল করেন। 


    এইদিকে এই ঘটনার পর উপজেলা পরিষদ চত্বরের বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রকল্পে চাকরী করলেও যুথির অফিসে কোন দায়িত্ব ছিল না। তার দায়িত্ব ছিল দেবীগঞ্জ মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিশোর কিশোরী ক্লাবে আবৃত্তি শিক্ষক হিসেবে। কিন্তু এরপরও যুথিকে সব সময় অফিস সময়ে সাইফুলের সাথে অফিসে দেখা যেত। বেশ কয়েকবার অপ্রস্তুত অবস্থায়ও তাদের অফিসে দেখা গেছে বলে দাবি করেন দুইজন। শুধু অফিসে নয় সাইফুল অফিসের কোন কাজে বাইরে গেলেও সাথে যুথিকে নিয়ে যেতেন। তাদের এই অনৈতিক সম্পর্কের কথা উপজেলা পরিষদ চত্বরের কম-বেশি অনেকে জানলেও কখনো মুখ খুলেননি।


    দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম মনিরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এই ঘটনায় থানায় মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। আজ আসামী দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

    এবি 

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…