ময়মনসিংহের ভালুকায় কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর শহরজুড়ে সক্রিয় একাধিক কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, চায়ের দোকান, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে নিয়মিত জটলা করে থাকে এসব দলের সদস্যরা। বিশেষ করে স্কুল–কলেজ ছুটির সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি বাড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সারোয়ার আহম্মদ অপু সংসদ সদস্য ফখরুদ্দীন আহমেদ বাচ্চুর কাছে কিশোর গ্যাং ও মাদকমুক্ত ভালুকা গড়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, এলাকাবাসী শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চান। উঠতি বয়সী কিশোররা মাদক ও সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছে—এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ প্রয়োজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকাভিত্তিক ছোট-বড় কয়েকটি গ্যাং গড়ে তুলে সংঘবদ্ধভাবে নানা অপরাধে জড়াচ্ছে কিশোররা। তরুণীদের উত্ত্যক্ত করা, চুরি–ছিনতাই, মাদক বহন ও বিক্রি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
গত ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় রাতুল পাঠান (১১) নামে এক শিক্ষার্থী আহত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলা পরিষদের সামনে একটি চায়ের দোকান এলাকায় টাকা দাবি করা হয় তার কাছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গলায় ১৮টি সেলাই দিতে হয় বলে জানান তার বাবা এমদাদ পাঠান।
পৌর শহরের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, উঠতি বয়সী কিশোরদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচলে সড়কে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়েছে। আরেক ব্যবসায়ী আশিকুর রহমান বলেন, দলবদ্ধ আড্ডা ও উৎপাতের কারণে দোকান চালানো দায় হয়ে গেছে।
এদিকে এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রশ্রয় ও প্রভাবের কারণে এসব কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাঁদের দাবি, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে ভালুকাকে কিশোর গ্যাং ও মাদকের ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত করা হোক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি, অভিভাবক সচেতনতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার সমন্বিত উদ্যোগেই ফিরতে পারে স্বস্তি।
ইখা