এইমাত্র
  • পদত্যাগ নিয়ে বিভ্রান্তি, মুখ খুললেন আইজিপি
  • মাদুরোকে অপহরণে অ্যানথ্রপিকের এআই ‘ক্লড’ ব্যবহার
  • তারেক রহমানের শপথে আসছেন ভারতের স্পিকার-পররাষ্ট্র সচিব
  • নাহিদ-সারজিসকে বুকে টেনে নিলেন তারেক রহমান
  • নতুন সরকারের নির্দেশনা পেলে ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান
  • ১৪ দিনে এলো ১৬৫১৯ কোটি টাকার প্রবাসী আয়
  • শফিকুর রহমানের বাসায় তারেক রহমান
  • নাহিদের বাসায় তারেক রহমান
  • দেশে নির্বাচন পরবর্তী কোনো সংখ্যালঘু নির্যাতন ঘটেনি: প্রেস সচিব
  • ফের পেছালো হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ
  • আজ সোমবার, ২ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    বাঁশখালীতে পিতৃত্ব অস্বীকারের জেরে কিশোরীর আত্মহত্যা

    মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
    মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

    বাঁশখালীতে পিতৃত্ব অস্বীকারের জেরে কিশোরীর আত্মহত্যা

    মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

    চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল ইউনিয়নে ১৩ বছর বয়সী ফাতেমা বেগমের আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী ব্যক্তি নেজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় পিতৃত্ব স্বীকার না করা, সামাজিক একঘরে করা এবং মামলা প্রত্যাহারের চাপ; এসবের সমন্বিত প্রভাবে এই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটেছে।


    রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজ বাড়ি থেকে ফাতেমার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি শেখেরখীল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাহামনিখীল এলাকার বাসিন্দা মো. এরফানুল হকের মেয়ে।


    বাঁশখালী থানার ওসি মো. খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ পাঠানো হয়েছে। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে নেজাম উদ্দিনকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বোন জুবায়দা নাহার রিকু। এর আগে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম ইউনিটে তদন্তাধীন রয়েছে। সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়াও চলমান।


    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছনুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চেমটখালী এলাকার মৃত ছৈয়দ আহমদের ছেলে নেজাম উদ্দিন শেখেরখীল ইউনিয়নের বাংলাখাল ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় বসবাস শুরু করেন। তার ভবনে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন ফাতেমার বড় বোন ও দুলাভাই। সেই সূত্রে প্রায় দুই বছর আগে নেজামের বাড়িতে ফাতেমা গৃহকর্মীর কাজ নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এক বছর আগে নেজাম জোরপূর্বক তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ফাতেমা গর্ভবতী হলে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। 


    পরিবারের দাবি, স্থানীয় প্রভাবশালীরা ফাতেমাকে একঘরে করে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেয়। এক মাস বয়সী কন্যা সন্তান রেখে তার আত্মহত্যা; এই সামাজিক চাপে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার ফল হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্বজনরা।


    নিহতের বোন জুবায়দা নাহার রিকু বলেন, গত ২৭ জানুয়ারি ফাতেমা একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করেন এবং সামাজিকভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে নেজাম।


    স্থানীয় সমাজপতি শহীদুজ্জামান চৌধুরী জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিক সালিশ বৈঠক হয়েছে। তবে অভিযুক্ত পিতৃত্ব স্বীকার না করায় সমাধান হয়নি।


    ফাতেমার মৃত্যু কেবল একটি আত্মহত্যার ঘটনা নয়; এটি গ্রামীণ সমাজে ক্ষমতার প্রভাব, নারীর নিরাপত্তাহীনতা, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং সামাজিক কলঙ্কের সম্মিলিত প্রতিফলন। এখন নজর থাকবে, ডিএনএ পরীক্ষার ফল, পিবিআই তদন্তের অগ্রগতি এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর। একটি একমাস বয়সী শিশু মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হলো। সমাজ ও রাষ্ট্র কি এই শিশুর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…