ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। দলীয় অন্দরমহল ও রাজনৈতিক মহলে এখন মূল আলোচনা নতুন মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্যদের তালিকা ঘিরে।
যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত মন্ত্রিসভার আকার বা গঠন নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দায়িত্বশীল সূত্র সময়ের কন্ঠস্বরকে জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভা প্রায় ৪০ সদস্যের হতে পারে। ইতিমধ্যে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য ৪০টি গাড়ি প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, এবারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণ ও মেধাবী নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে। বয়োজ্যেষ্ঠ অনেক নেতাকে মন্ত্রিসভায় না-ও দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
জানা গেছে, সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। এরপর একইদিন বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন।
এবারই প্রথম বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথ আয়োজন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে শপথের আগে আজ রোববার বিএনপির কয়েকজন নেতা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘুরে দেখেন। এ সময় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন তারা। শপথ অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি ও আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদ সদস্যদের শপথের পর পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে দলনেতা নির্বাচিত করা হবে। পরে সেই দলনেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করবেন এবং রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে দুই শতাধিক আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি।
সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় একজন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হবে। মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে অন্তত ৯০ শতাংশ সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে হবে এবং সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ টেকনোক্র্যাট সদস্য রাখা যাবে।
নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পরই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে। সে পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার বহাল থাকবে। নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে।
এনআই