এইমাত্র
  • গজারিয়ায় ৩৭ কেভিএ ট্রান্সফরমার চুরি!
  • ইরানে ক্ষমতায় আসার মতো সম্ভাব্য সব ব্যক্তি নিহত: ট্রাম্প
  • ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাহরাইনে এক বাংলাদেশি নিহত
  • ৪ আসনের ব্যালট পেপার ও রেজাল্ট শিট হেফাজতে নেয়ার নির্দেশ
  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছে ইরান
  • ইউরোপের দেশ সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা
  • যশোরের শার্শায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গ্রাম পুলিশের মৃত্যু
  • খুনির মোটরসাইকেলে লেখা ছিল ‘হাদি ইজ নট নেম, হাদি মিনস বাংলাদেশ’
  • ফুলে ভরে উঠেছে আমবাগান, ন্যায্য দামের প্রত্যাশায় চাষিরা
  • ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু আগামীকাল
  • আজ সোমবার, ১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ২ মার্চ, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    খুনির মোটরসাইকেলে লেখা ছিল ‘হাদি ইজ নট নেম, হাদি মিনস বাংলাদেশ’

    বিল্লাল হোসেন, যশোর প্রতিনিধি প্রকাশ: ২ মার্চ ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
    বিল্লাল হোসেন, যশোর প্রতিনিধি প্রকাশ: ২ মার্চ ২০২৬, ১২:২৫ পিএম

    খুনির মোটরসাইকেলে লেখা ছিল ‘হাদি ইজ নট নেম, হাদি মিনস বাংলাদেশ’

    বিল্লাল হোসেন, যশোর প্রতিনিধি প্রকাশ: ২ মার্চ ২০২৬, ১২:২৫ পিএম

    যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ মামলার আসামি মনিরুল ইসলামকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহরতলীর ঝুমঝুমপুরের মাস্টারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

    মনিরুল ইসলাম শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে। রবিবার (১ মার্চ) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব আহম্মেদ ইমন তার জবানবন্দি গ্রহণ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    ডিবি সূত্র জানায়, মনিরুলের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটে লেখা ছিল—‘হাদি ইজ নট নেম, হাদি মিনস বাংলাদেশ’; অর্থাৎ ‘হাদি শুধু নাম নয়, হাদি মানে বাংলাদেশ’।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই অলক কুমার দে বলেন, ‘মনিরুলের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ মোট ১৭টি মামলা রয়েছে। এ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের জামাই পরশ, সহযোগী সাগর, মূল শুটার ত্রিদিব ওরফে মিশুক, শাহীন কাজী এবং সর্বশেষ মনিরুলকে আটক করা হয়েছে। আটক পাঁচজনের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।’

    তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আসামিদের দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, আলমগীর হোসেন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তার জামাই পরশ। শ্বশুরকে হত্যা করতে ১৫ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয়। ঘটনার দিন হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। বিকেলে পরশ শুটার মিশুককে এক লাখ টাকা ও একটি পিস্তল দেন। হত্যার পর বাকি চার লাখ টাকা শংকরপুরের প্রিন্সের কাছ থেকে ধার নিয়ে পরিশোধ করার পরিকল্পনা ছিল। অবশিষ্ট ১০ লাখ টাকা সুবিধাজনক সময়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

    তদন্তে আরও জানা গেছে, হত্যামিশনে ১০ থেকে ১২ জন অংশ নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম মোটরসাইকেলে ছিলেন অমিত ও শুটার মিশুক। দ্বিতীয় মোটরসাইকেলে ছিলেন আরও দুজন এবং তৃতীয় মোটরসাইকেলে ছিলেন তিনজন।

    ঘটনার দিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আলমগীর হোসেন মোটরসাইকেল চালিয়ে শংকরপুর বটতলা হয়ে ইসহাক সড়কে আসেন। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেল তাকে অনুসরণ করতে থাকে। ইসহাক সড়কে একটি দোকানের সামনে তিনি কিছুক্ষণ দাঁড়ালে হামলাকারীরাও অপেক্ষা করে। পরে সাবেক কাউন্সিলর নয়নের কার্যালয়ের কাছে পৌঁছালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি ছোড়ে মিশুক। গুলিবর্ষণের পর চারজন দুটি মোটরসাইকেলে করে গোলপাতা মসজিদের দিকে পালিয়ে যায়। শাহীন কাজী চালিত তৃতীয় মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থল থেকে ঘুরে বটতলার দিকে চলে যায়।

    উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে আলমগীর হোসেনকে হত্যা করা হয়। তিনি শংকরপুর এলাকার ইসহাক সড়কের ইন্তাজ চৌধুরীর ছেলে।

    এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় জামাই পরশ, সাগরসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।

    হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযান চালিয়ে পুলিশ পরশ ও সাগরকে আটক করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল শুটার ত্রিদিব ওরফে মিশুককে বেজপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মিশুকের স্বীকারোক্তিতে রায়পাড়া তুলোতলা এলাকার শাহীন কাজীকেও আটক করা হয়। তার জবানবন্দিতে মনিরুল ইসলামের নাম উঠে আসে।

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…