সুইডেন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান খালেদা জিয়া মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউট। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জীবন, রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্রনায়কসুলভ ভূমিকা নিয়ে গবেষণা ও প্রামাণ্য কাজ পরিচালনা করাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য। ইউরোপে এ ধরনের উদ্যোগ এটিই প্রথম।
গত রবিবার (৪ জানুয়ারি) সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের একটি অডিটোরিয়ামে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরুর প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়ার মৃত্যু উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় শোকসভা, দোয়া ও আলোচনা সভা। এসব কর্মসূচিতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, স্টকহোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ওয়াহিদা আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন, কাউন্সিলর রেহানা পারভিন এবং দূতাবাসের প্রথম সচিব নিজাম উদ্দিন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, খালেদা জিয়া মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউটের উদ্যোক্তাদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন কাইজার, পাপেল খান ও রাইসুল হকসহ প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের বিভিন্ন প্রতিনিধি।
শোকসভা শুরুতে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে আলোচনা সভায় বক্তারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন।
বক্তারা বলেন, ‘খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনায়ক, যার নেতৃত্ব ও সংগ্রাম দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছে। সামরিক শাসনের পর দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বহুদলীয় রাজনীতির বিকাশ এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তার নেতৃত্বগুণ, রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও সংগ্রামী জীবনের নানা দিক আলোচনায় উঠে আসে।
খালেদা জিয়া মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউটের অন্যতম উদ্যোক্তা প্রধান শাহাদাত হোসেন কাইজার জানান, খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক দর্শন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এই ইনস্টিটিউট গবেষণা, প্রকাশনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শ ও চিন্তাধারাকে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করবে। ইউরোপে এ ধরনের উদ্যোগ এটিই প্রথম।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত ওয়াহিদা আহমেদ বলেন, ‘এই গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তার রাজনৈতিক আদর্শ ও নেতৃত্বকে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ তৈরি করবে।’ তিনি বলেন, ‘ইতিহাস ও নেতৃত্বকে গবেষণার মাধ্যমে সংরক্ষণ করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অতিথিরা একটি শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
ইখা