চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় জানে আলম সিকদার (৪৮) নামের যুবদলের এক সাবেক নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের নিজ বাসার প্রায় ২০০ মিটার দূরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত পৌনে ৯টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকে জানে আলম পাশের অলিমিয়াহাট বাজার থেকে ইটের রাস্তা ধরে বাড়ি ফিরছিলেন।
বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে পৌঁছালে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে এসে দেখেন, একদল দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যাচ্ছে। পরে তারা বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা জানে আলমকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মোটরসাইকেলের পেছনে বসা একজন খুব কাছে গিয়ে তাকে পরপর দুই রাউন্ড গুলি করে।
এরপর দ্রুত পালিয়ে যায় তারা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ার কয়েক মিনিট পরই তার মৃত্যু হয়।
জানে আলম রাউজান উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র সদস্য ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতির কয়েকটি ঘটনার পর তিনি কিছুদিন ধরে তেমন সক্রিয় ছিলেন না বলে জানান দলটির একাধিক নেতা।
পরিবার বলছে, তার কোনো শত্রুতা ছিল না। হঠাৎ কেন তাকে টার্গেট করা হলো, তা তারা বুঝতে পারছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ আহমদ বলেন, জানে আলম তার একই বাড়ির বাসিন্দা। মোটরসাইকেল আরোহীরা তাকে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে জানে আলমের বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে।
তিনি ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন বলেও জানান ফিরোজ আহমদ। তবে কী কারণে তাকে গুলি করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো ধারণা দিতে পারেননি।
রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে এসেছি। নিহতের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে রয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এখনো পরিষ্কার নয়। মোটরসাইকেলের অংশ নেওয়া তিনজনকে শনাক্তে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এফএস