খাবার সতেজ রাখতে এবং গৃহিণীদের কাজের চাপ কমাতে ফ্রিজের বিকল্প নেই। তবে সঠিক যত্নের অভাব এবং কিছু সাধারণ ভুলের কারণে শখের এই প্রয়োজনীয় যন্ত্রটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ফ্রিজ ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, মূলত পাঁচটি প্রধান কারণে একটি ফ্রিজ অকালেই তার কার্যক্ষমতা হারায়।
এর মধ্যে অন্যতম হলো ফ্রিজের কনডেন্সার কয়েল নিয়মিত পরিষ্কার না করা। ফ্রিজের পেছনে বা নিচে থাকা এই কয়েলটি গরম বাতাস বাইরে বের করে দেয়। এখানে ধুলোবালি জমলে মেশিনে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, যা ফ্রিজের আয়ু কমিয়ে দেয়। তাই নিয়মিত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ব্রাশ বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে কয়েল পরিষ্কার রাখা জরুরি।
ফ্রিজের দরজার চারপাশের রাবার সিলটি ভেতরের ঠান্ডা বাতাস আটকে রাখতে সাহায্য করে। অনেক সময় অবহেলার কারণে এই সিল নষ্ট হয়ে যায়, ফলে ভেতর থেকে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায় এবং তাপমাত্রা বজায় রাখতে ফ্রিজকে বাড়তি শক্তি খরচ করতে হয়। এটি ফ্রিজ নষ্ট হওয়ার অন্যতম একটি কারণ।
রাবার সিল ভালো রাখতে নিয়মিত ভেজা কাপড় দিয়ে মোছা এবং প্রয়োজনে সামান্য ভেসলিন ব্যবহার করা যেতে পারে।
এছাড়া ফ্রিজের ভেতরের ভেন্ট বা বাতাস চলাচলের পথ আটকে রাখাও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ভেন্টের সামনে বড় বাসন বা গাদাগাদি করে খাবার রাখলে ঠান্ডা বাতাস চলাচলে বাধা পায়, যা পরোক্ষভাবে ফ্রিজের ওপর চাপ বাড়ায়।
ফ্রিজে খাবার রাখার ক্ষেত্রে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্রিজ একেবারে খালি রাখা যেমন ঠিক নয়, তেমনি অতিরিক্ত জিনিস দিয়ে গাদাগাদি করে রাখাও ক্ষতিকর।
ফ্রিজ তিন-চতুর্থাংশ ভর্তি রাখা সবচেয়ে আদর্শ অবস্থা, যা বাতাস চলাচলে সহায়তা করে এবং সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখে।
এছাড়া বারবার ফ্রিজের দরজা খোলার অভ্যাসও যন্ত্রটির দ্রুত ক্ষতির কারণ হতে পারে। প্রতিবার দরজা খোলার ফলে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায় এবং কম্প্রেসারকে পুনরায় তাপমাত্রা ঠিক করতে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়।
এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে কম্প্রেসারকে দুর্বল করে দেয়। তাই ফ্রিজ দীর্ঘ সময় ভালো রাখতে সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এফএস