উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে।
শুক্রবার (০৯ ডিসেম্বর) ভোর থেকে ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে জেলাজুড়ে নেমে আসে কনকনে ঠাণ্ডা। তেঁতুলিয়ায় আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৯টায় তা আরও কমে দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। যা ছিল আজ দেশের সর্বনিম্ম তাপমাত্রা। আগের দিন বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং সকাল ৯টায় ছিল ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা তার আগের দিনের তুলনায় কম।
ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা গেছে। গত তিন দিন ধরে রোদের দেখা মিললেও সারা দিনই হিমেল বাতাসে শীতের অনুভূতি তীব্র ছিল। মধ্যরাতের দিকে বাতাসে ছোট ছোট কুয়াশার কণা ভেসে বেড়াতে দেখা গেছে। সকালে শিশির পড়েছে ঘাস ও ফসলের জমিতে। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মহাসড়কে ভারী যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।
শীতের প্রভাব পড়েছে কর্মজীবী মানুষের ওপর। নদী থেকে বালু ও পাথর উত্তোলনে নিয়োজিত শ্রমিকদের হাত-পা অবশ হয়ে আসছে। কৃষি শ্রমিকদের জন্যও মাঠে কাজ করা কষ্টকর হয়ে উঠেছে। এদিকে জেলা সদরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বেশিরভাগ রোগী শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসছেন। অতিরিক্ত শীতের কারণে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, টানা কয়েক দিন সূর্যের দেখা না মিললেও গত তিনদিন থেকে দুপুরের দিকে সূর্যের দেখা মিলছে। সূর্যের তেজ কম থাকলেও যতটুকু উত্তাপ ছড়িয়েছিল তাতে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি দেখা যায় জানুয়ারী জুড়ে তাপমাত্রার উঠা-নামা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
এসআর