জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের শক্তিশালী ও নিষ্ঠুর কয়েকটি দেশ বা নেতা যদি নিজের ইচ্ছামতো সবকিছু দখল করতে পারে, এতে বৈশ্বিক নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে। তিনি এমন পরিস্থিতিকে ‘ডাকাতের আস্তানা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দেশগুলোর প্রতি একসঙ্গমে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্টাইনমায়ারের এ মন্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির প্রতি সরাসরি সমালোচনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটকের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতকে তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সাবেক এ জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এখন বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র এমন আক্রমণের মুখে পড়ছে, যা আগে কখনো হয়নি।
স্টাইনমায়ার ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা এবং ইউক্রেনে দেশটির পূর্ণমাত্রার হামলাকে বিশ্বব্যবস্থায় ভাঙন ধরানোর ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মোড় বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ দ্বিতীয় ঐতিহাসিক ভাঙনের ইঙ্গিত।
গত বুধবার রাতে এক সিম্পোজিয়ামে স্টাইনমায়ার বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র, যা এই বিশ্বব্যবস্থা গঠনে সাহায্য করেছে। কিন্তু এখন দেখি, বিশ্বের অনেক অঞ্চল বা দেশ কয়েকটি শক্তিশালী দেশের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যেখানে নিষ্ঠুরতম মানুষরা সবকিছু নিজের ইচ্ছেমতো দখল করে রাখে। এই ধরণের ‘ডাকাতের আস্তানা’ থেকে বিশ্বকে বাঁচানো এখন আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।’
সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এআরডি’র জরিপে দেখা গেছে, জার্মানির ৭৬ শতাংশ নাগরিক মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর জার্মানির নির্ভরযোগ্য অংশীদার নয়। ২০২৫ সালের জুনে এই হার ছিল ৭৩ শতাংশ। পাশাপাশি মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, জার্মানি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করতে পারবে।
জার্মান নাগরিকদের মধ্যে তিন-চতুর্থাংশ মনে করছেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের ওপর তারা নির্ভর করতে পারবে। জরিপে দেখা গেছে, ৬৯ শতাংশ মানুষ ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। প্রায় সমান সংখ্যক মানুষ মনে করছেন, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা–সুরক্ষার ওপর নির্ভর করতে পারছে না।
স্টাইনমায়ারের মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে শক্তিশালী দেশগুলোর আচরণ এবং স্বার্থপর নীতির ফলে বিশ্বব্যবস্থা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বের নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে।
আরডি