এইমাত্র
  • নির্বাচনের পর যে তিন কাজে মনোযোগ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা
  • মিয়ানমার সীমান্তে গুলিবিদ্ধ সেই শিশু আইসিইউতে
  • ময়মনসিংহে গাছের নিচে চাপা পড়ে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু
  • সিরাজগঞ্জে রাতের আঁধারে লুট হচ্ছে যমুনার বালু
  • সংস্কৃতির বেড়াজাল ডিঙিয়ে লক্ষ্মীপুরে ফরাসি তরুণী
  • এবারের নির্বাচন হবে ঐতিহাসিক: ইইউ
  • শোকজের জবাব দিলেন ধানের শীষের প্রার্থী অমিত
  • ইসিতে দ্বিতীয় দিনের আপিলে ৫৭ জন বৈধ
  • খুনি হাসিনা বিনা কারণে আমাকে ১৪ বছর বন্দি করে রাখে: এ টি এম আজহার
  • প্রাণ বাঁচাতে অর্ধশত আরসা সদস্যের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ
  • আজ রবিবার, ২৮ পৌষ, ১৪৩২ | ১১ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে তরুণ আইনজীবীকে অপহরণের চেষ্টা

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৩ এএম
    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৩ এএম

    চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে তরুণ আইনজীবীকে অপহরণের চেষ্টা

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৩ এএম

    চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে প্রশাসনের পরিচয় ব্যবহার করে এক তরুণ আইনজীবীকে দফায় দফায় গাড়ি থামিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে অনুসরণ করে একাধিক স্থানে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালায়। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে এমন ঘটনা যাত্রী ও ব্যক্তিগত যানবাহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সাকিব (২৮) চট্টগ্রাম বারের একজন নবীন আইনজীবী। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে তিনি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে লোহাগাড়া উপজেলার গ্রামের বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম শহরের দিকে ফিরছিলেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে চন্দনাইশ, পটিয়া ও কর্ণফুলী এলাকায় পর্যায়ক্রমে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তার জীবনের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করে বলে তিনি জানান।

    প্রথম ঘটনাটি ঘটে রাত প্রায় ১০টার দিকে চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া কলেজসংলগ্ন এলাকায়। সেখানে সিভিল পোশাক পরিহিত দুই ব্যক্তি হাতে ওয়্যারলেস সেট নিয়ে প্রশাসনের পরিচয় দিয়ে সাকিবের গাড়ি থামান। তারা কোনো পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়ে গাড়ির দরজা খুলতে নির্দেশ দেন। আইনগত সচেতনতা থেকে সাকিব তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আগ্রাসী আচরণ শুরু করেন। পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি কৌশলে গাড়ি চালিয়ে দ্রুত সেখান থেকে সরে যান।

    ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে সাকিব তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সহায়তায় দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশ তাকে জানায়, ওই এলাকায় তাদের কোনো চেকপোস্ট, টহল টিম বা অভিযান চলছিল না। এতে প্রশাসনের পরিচয়টি ভুয়া বলে নিশ্চিত হন তিনি।

    এর কিছুক্ষণ পর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে পটিয়া উপজেলার শান্তির হাট এলাকায় আরও ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন সাকিব। একটি নোয়াহ মাইক্রোবাস তার গাড়ির সামনে এসে পথরোধ করে। সেখান থেকে চার ব্যক্তি নেমে নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দেন। তারা হ্যান্ডকাফ দেখিয়ে ভয় দেখান এবং দাবি করেন, সাকিবের গতিবিধি ও অবস্থান ‘ট্র্যাকিংয়ে’ রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে তারা গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।

    ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের আচরণ ও কথাবার্তা পেশাদার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। পরিস্থিতি বুঝে তিনি নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দেন এবং জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে পুলিশের একাধিক ইউনিটকে অবহিত করা হয়েছে। এতে অভিযুক্তরা তাকে পটিয়ার মনসা বাদামতল এলাকার একটি নির্জন স্থানে নামিয়ে দিয়ে দ্রুত সরে যায়।

    তবে এখানেই আতঙ্ক শেষ হয়নি। কর্ণফুলী টানেল হয়ে ফেরার সময় সাকিব লক্ষ্য করেন, একই নোয়াহ গাড়িটি দূরত্ব বজায় রেখে তাকে অনুসরণ করছে। জীবন রক্ষায় তিনি কর্ণফুলী টানেল মোড়ের একটি রেস্তোরাঁয় গাড়ি থামিয়ে আশ্রয় নেন এবং পুলিশের জরুরি সহায়তা চান। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছান।

    ঘটনার পর পটিয়া সার্কেলের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, এ ঘটনার সঙ্গে ডিবি বা পুলিশের কোনো ইউনিটের সম্পৃক্ততা নেই। প্রশাসনের পরিচয়ে যে অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, তা প্রতারণামূলক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

    এ ঘটনায় এডভোকেট মোহাম্মদ সাকিব সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের পরিচয় ব্যবহার করে মহাসড়কে এভাবে মানুষকে লক্ষ্য করা ভয়ংকর অপরাধ এবং এটি পরিকল্পিত অপহরণ বা আরও বড় অপরাধের ইঙ্গিত হতে পারে। তিনি দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং মহাসড়কে নজরদারি জোরদারের দাবি জানান।

    ভুক্তভোগীর বড় ভাই সাংবাদিক আকিল মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক দেশের পর্যটন ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সেখানে ভুয়া প্রশাসন সেজে সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগ জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…