এইমাত্র
  • ২৫ বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত
  • বিএনপির যেসব ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী তারেক রহমানের নির্দেশ মাথা পেতে নিলেন
  • বিক্ষোভ প্রশমনে অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ইরানের
  • জমে থাকা ক্ষোভ আর লোভে প্রাণ গেল দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিলির
  • এবার ভারতের ম্যাচে বাংলাদেশের আম্পায়ার, যে ব্যাখ্যা দিল বিসিবি
  • উ. কোরিয়ার সীমান্তে ড্রোনের হানা, সিউলকে উনের বোনের কড়া হুঁশিয়ারি
  • ঢাকা পর্বে বিপিএলের টিকিটের দাম সর্বনিম্ন ২০০ টাকা, কিনবেন যেভাবে
  • ফুলবাড়ী সীমান্তে ফের সড়ক নির্মাণ বিএসএফের
  • দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না প্রথম স্ত্রীর অনুমতি
  • জুলাই হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালে প্রথম জামিন পেলেন আ.লীগ নেতা হুমায়ুন
  • আজ সোমবার, ২৮ পৌষ, ১৪৩২ | ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    সংস্কৃতির বেড়াজাল ডিঙিয়ে লক্ষ্মীপুরে ফরাসি তরুণী

    আব্দুল মালেক নিরব, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
    আব্দুল মালেক নিরব, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম

    সংস্কৃতির বেড়াজাল ডিঙিয়ে লক্ষ্মীপুরে ফরাসি তরুণী

    আব্দুল মালেক নিরব, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম

    ভালোবাসা কোনো সীমান্ত মানে না, মানে না ভাষা কিংবা সংস্কৃতির ভিন্নতা; এই কথাটিকেই যেন বাস্তবে প্রমাণ করেছেন ফ্রান্সের এক তরুণী ও লক্ষ্মীপুরের এক তরুণ দম্পতি। প্রেমের টানে ফ্রান্স থেকে সুদূর লক্ষ্মীপুরের গ্রামে ছুটে এসেছেন ফরাসি তরুণী সিনথিয়া ইসলাম।

    লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রাজিবপুর এলাকার সমসের উদ্দিন খলিফা বাড়ির মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম রাসেল ২০১১ সালে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে যান। পরে ২০১৩ সালে তিনি ফ্রান্সে পাড়ি জমান। সেখানেই পড়ালেখার সূত্রে সিনথিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। 

    ধীরে ধীরে সেই পরিচয় রূপ নেয় গভীর সম্পর্কে। পারিবারিক সম্মতিতে ২০১৭ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে সিনথিয়া ইসলাম নাম ধারণ করে রাসেলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সিনথিয়ার পূর্ব নাম ছিল ‘অম’। বর্তমানে তাদের সংসারে রয়েছে আমেনা ইসলাম (৬) ও আলিফ ইসলাম (৪) নামে দু’টি সন্তান।

    সম্প্রতি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে এসেছেন রাসেল। গ্রামীণ মেঠোপথে হাঁটা, হাওয়াই মিঠাই খাওয়া, স্থানীয়দের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠা—সবকিছুতেই মুগ্ধ ফরাসি এই তরুণী। গ্রামের পরিবেশ ও মানুষের আন্তরিকতায় তিনি আপ্লুত বলে জানান স্থানীয়রা। মেঘনা নদী এলাকা ও লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রসহ কক্সবাজার ভ্রমণের ছবিও তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন।

    রাসেল জানান, ২০২৪ সালে ‘রাসেল এন্ড সিনথিয়া’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খোলা হয়। বর্তমানে সেখানে প্রায় ২১ লাখ ফলোয়ার রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ বাংলাদেশি এবং ৬০ শতাংশ বিদেশি ফলোয়ার। আরব দেশগুলো থেকেই তাদের সবচেয়ে বেশি অনুসারী রয়েছে।

    প্রেমের শুরুটা সহজ ছিল না। ভাষাগত সমস্যার কারণে শুরুতে গুগল ট্রান্সলেটের সাহায্যে কথা বলতে হতো তাদের। এক বছরের চেষ্টায় এই বাধা কাটিয়ে ওঠেন তারা। সিনথিয়াও আগ্রহ নিয়ে বাংলা ভাষা শেখার চেষ্টা করছেন।

    রাসেল বলেন, ‘আমার মাতৃভূমি বাংলাদেশ, আর আমার স্ত্রী ও সন্তানদের আরেকটি দেশ ফ্রান্স। ভবিষ্যতে আমরা ছয় মাস বাংলাদেশে ও ছয় মাস ফ্রান্সে থাকার পরিকল্পনা করছি, যাতে সন্তানরা দুই দেশের সংস্কৃতিই জানতে পারে।’

    সিনথিয়া ফরাসি ভাষায় বলেন, বাংলাদেশে পরিবারের বন্ধন ও মানুষের পারস্পরিক ভালোবাসা তাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। বাংলা ভাষায় তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন, “আমার দেশ বাংলাদেশ।” শাশুড়ির হাতে তৈরি পিঠা তার প্রিয় খাবার।

    ভালোবাসা, বিশ্বাস ও পারিবারিক বন্ধনে গড়া এই দম্পতির গল্প এখন লক্ষ্মীপুরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সীমান্ত, ভাষা আর সংস্কৃতির সব বাধা পেরিয়ে তাদের এই প্রেমের গল্প যেন বিশ্ববাসীর জন্য এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

    আরডি

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…