সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় যমুনা নদীর বিভিন্ন শাখা চ্যানেল থেকে দিন ও রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ভূতের মোড়, দত্তকান্দি ও কাঁঠালিয়া এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র নিয়মিত ড্রেজার বসিয়ে বালু কাটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত যমুনার বিভিন্ন চ্যানেলের এইসব গ্রামে ড্রেজার বসিয়ে বালু কাটা হয়। এতে ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে গ্রামগুলোর বিভিন্ন পয়েন্ট।
স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালী বালু লুট চক্রের ভয়ে তারা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পায় না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় ‘ভূমি অফিসকে’ ‘ম্যানেজ করে’ প্রভাবশালী মহলটি নদীর বালু লুট করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেন, ‘যমুনা বিধৌত সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ভূতের মোড়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী মহল প্রতি রাতেই ড্রেজার বসিয়ে কোনো না কোনো গ্রাম থেকে বালু কেটে নিচ্ছে। বালু কেটে নেওয়া হলেও মিরকুটিয়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অবৈধভাবে বালু কাটায় ৩ গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের আশংকা দেখা দিয়েছে। কেউ বালু কাটতে বাধা দিলে প্রভাবশালী মহলটি তার ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালায় বলে জানায় গ্রামের মানুষ। ফলে ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
মিরকুটিয়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আকবর আলী বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে বালু কাটা বন্ধে চৌহালীর বিভিন্ন ক্যানেলে শনিবার রাত থেকে গ্রাম পুলিশ ও ভূমি অফিসের লোকজনের সমন্বয়ে পাহারা বসানো হয়েছে। সেই সাথে বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।’
ভূমি অফিসকে ম্যানেজ করে বালু কেটে নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্থানীয়রা আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছে তা সত্য নয়। গ্রামের লোকজন বালু কাটার ব্যাপার আমাকে কখনো জানায়নি। উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বালু কাটার বিষয়টি জানতে পারি।’
অভিযুক্ত বালু ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ৮ বছর ধরে বালুর ব্যবসা করছি। ভূতের মোড়, হিজুলিয়া ও কাঁঠালিয়ায় অন্তত ১০ জন এখানে বালুর ব্যবসা করেন। সুযোগ পেলেই প্রভাবশালীরা অনেককেই ম্যানেজ করে বালু কাটে, টাকা হাতিয়ে নেন। ব্যবসায় আমার প্রতিপক্ষ আছে। তারা আমার বিরুদ্ধে বালু কাটার মিথ্যা অভিযোগ করতে পারে।’
আরডি