আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুমোদনের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রচারণা জোরদার হয়েছে। তবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তারের পক্ষ থেকে বিলবোর্ড স্থাপন করায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
রোববার সরেজমিনে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে দুটি ব্যানার টাঙানো হয়েছে। একটি ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘দেশের চাবি আপনার হাতে, পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ’। অন্য ব্যানারে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে জনগণ যেসব সুবিধা ভোগ করবে, সেগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যানারের নিচে লেখা আছে, ‘হ্যাঁ ভোট দিলে উপরের সব কিছুই পাবেন, না ভোট দিলে কিছুই পাবেন না।’ এসব ব্যানারে ২০২৬ সালের নির্বাচনে পরিবর্তনের পক্ষে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এভাবে নির্দিষ্ট একটি অবস্থানের পক্ষে প্রচারণা চালানোয় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গণভোটের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রস্তাবিত বিষয়ের ওপর জনগণের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মতামত জানা। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকেই যখন আগেভাগে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালানো হয়, তখন ভোটের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
স্থানীয় ভোটার অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রানা বলেন, ‘প্রশাসন কোনোভাবেই জনগণকে বাধ্য করতে পারে না। গণভোট মানে জনগণ নিজের মতামত দেবে। কিন্তু প্রশাসন যদি বিলবোর্ড দিয়ে আমাদের “হ্যাঁ” বলতে বলে, তাহলে ভোট দেওয়ার প্রয়োজনই বা কী থাকে?’
এ বিষয়ে জানতে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তারের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ ও বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য এই গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানে সম্ভাব্য সংস্কার ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বিষয়ে জনগণের সরাসরি মতামত নেওয়া হবে। সরকার পরিবর্তনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশবাসী যখন একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার প্রত্যাশা করছে, তখন প্রশাসনের এমন ভূমিকা স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এনআই