পাবনার চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের দাঁথিয়া কয়রাপাড়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরও লুটপাট চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই গ্রামের মৃত আতাউর রহমানের স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন।
অভিযুক্তরা হলেন, দাঁথিয়া কয়রাপাড়া মৃত বসরত প্রামানিকের ছেলে আইয়ুব আলী ও তার ছেলে হৃদয় হোসেন, ফৈলজানা ইউনিয়নের মেম্বার লোকমান হোসেন গং।
অভিযোগে জানা গেছে, ওই গ্রামের নূর হোসেনের সাড়ে ১৬ শতক জমি পৈত্রিক সূত্রে পান তার চার ছেলে ও দুই মেয়ে। তাদের মধ্যে এক বোন হোসনে আরা খাতুন বেবির অংশ কিনে নেন তার ভাতিজা সোহাগ রানা। এই জমির মধ্যে আছে একটা খেজুর গাছ। সেই খেজুর গাছ জমির মালিকের কাছে মৌখিক অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করে আসছিলেন প্রতিবেশি সোহাগের দু:সম্পর্কের চাচা আইয়ুব আলী। ভাতিজা সোহাগ জমি কেনার পরও ভোগ করে আসছিলেন আইয়ুব।
সম্প্রতি জমির মালিক সোহাগের মা আনোয়ারা খাতুন অভিযুক্ত আইয়ুবকে সেই গাছ ভোগ করা থেকে বিরত থাকার জন্য বারবার অনুরোধ করেন। ছেলের কেনা জমিতে থাকা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গাছিদের তৈরী করা গুড় নিয়ে আসেন আনোয়ারা। কিন্তু সেই গুড় দেবার দাবি করেন আইয়ুব। এতদিন তিনি খেয়েছেন এখনও তিনি খাবেন বলে দাবি করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় বিরোধ।
গত শুক্রবার বিকেলে আইয়ুব ও ছেলে হৃদয়সহ তাদের স্বজনরা দাঁথিয়া বাজারে সোহাগের চাচা মোতাহার হোসেন আমজাদ ও আসাদুজ্জামানেন সাথে বাকবিতন্ডায় জড়ান। এক পর্যায়ে আসাদুজ্জামানের সাথে ধাক্কাধাক্কি হয় তাদের। মোতাহার হোসেন আমজাদের ওষুধের দোকান ঘেরাও করে এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন আইয়ুব গং।
এ ঘটনার আগেরদিন ৮ জানুয়ারি থানায় জিডি করেন ভুক্তভোগীরা। তারই জেরে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সোহাগের বাড়িতে ৭২টি মোটরসাইকেলযোগে আইয়ুব গংয়ের পক্ষ হয়ে ফৈলজানা ইউনিয়নের মেম্বার লোকমান বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে এসে অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এ সময় বাড়ি ঘর ভাংচুর ও দুই লাখ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অবিযোগে আরও বলা হয়, রান্না করা অবস্থায় সোহাগের মা আনোয়ারা খাতুন কে মারধর করেন তারা। যাবার সময় সোহাগকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সোহাগের মা আনোয়ারা খাতুন বাদী হয়ে চাটমোহর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে দায়ের করা জিডির সূত্র ধরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।’
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগের চেষ্টা করলে অভিযুক্ত আইয়ুব আলীর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার ছেলে হৃদয় হোসেন পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
তবে ফৈলজানা ইউনিয়নের মেম্বার লোকমান হোসেন বলেন, ‘আমাদের এই সমস্যা নিয়ে বসার কথা ছিল। সেজন্যই ওখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরে যে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটবে এটা আমি বুঝতে পারিনি। দুই তিন দিন পরে আবারো বসার কথা আছে। সেখানে একটা সুষ্ঠু সমাধান হবে বলে আশা করি।’
ইখা