যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সুযোগ পেলে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে রাশিয়া থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে যুদ্ধাপরাধের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতেন।
শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) এক দিনের সফরে কিয়েভে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে নিকোলাস মাদুরেকে তুলে নিয়ে যান। এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী সমালোচনার ঝড় বইছে।এবার ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাদুরো স্টাইলে রুশ প্রেসিডেন্টকে তুলে নেওয়ার হুঙ্কার দিলেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে প্রেসিডেনশিয়াল প্রাসাদে বৈঠক করেন জন হিলি। সেখানে তিনি ঘোষণা দেন, সম্ভাব্য শান্তিরক্ষা মিশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্রিটেন ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করে সেনাদের প্রশিক্ষণ দেবে।
কিয়েভে একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলার স্থান পরিদর্শনের সময় কিয়েভ ইনডিপেনডেন্টকে জন হিলি জানান, যদি কোনো বিশ্বনেতাকে অপহরণের সুযোগ থাকত, তবে তিনি পুতিনকেই হেফাজতে নিয়ে যুদ্ধাপরাধের জন্য জবাবদিহি করাতেন। যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনার পরই তিনি এমন মন্তব্য করেন।
জন হিলির ভাষ্য মতে, পুতিনের যুদ্ধাপরাধের মধ্যে রয়েছে বুচা ও ইরপিনে বেসামরিক হত্যাকাণ্ড এবং ইউক্রেনীয় শিশুদের অপহরণ। ২০২২ সালের এপ্রিলে বুচা মুক্ত হওয়ার পর সেখানে গণকবরের সন্ধান মেলে।
২০২৪ সালের মে মাসে জন হিলি ওই হত্যাকাণ্ডের শিকারদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করেন।
২০২৩ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইউক্রেনীয় শিশুদের অপহরণের অভিযোগে পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। অভিযোগ রয়েছে, শত শত ইউক্রেনীয় শিশুকে—যাদের মধ্যে এতিম শিশুও রয়েছে—জোরপূর্বক রাশিয়ায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন পরিদর্শনের সময় জন হিলি জানান, পুতিন শুধু যুদ্ধ চালাতে চান না, বরং শীতের মধ্যে বেসামরিক মানুষ, শহর ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'এই মানুষটিকে থামাতে হবে, এই যুদ্ধ থামাতে হবে।'
এমআর-২