ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকপোস্ট বসানোসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন।
নির্বাচনের আগে জেলায় একের পর এক সহিংস ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও বেড়েছে। গত ৩ জানুয়ারি যশোর পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে শহরের শংকরপুর ইসাহাক সড়কে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী ওরফে মিশুকসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, নিহত আলমগীরের জামাতা বাসেদ আলী পরশ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হিসেবে মিশুককে দিয়ে হত্যাকাণ্ডটি ঘটান।
এর একদিন পর, ৪ জানুয়ারি সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর এলাকায় সকালে হাঁটতে বের হলে জুলাইযোদ্ধা এনাম সিদ্দিকীকে (৩২) ছুরিকাঘাতে আহত করে দুর্বৃত্তরা। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মণিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাথা লক্ষ্য করে একাধিক গুলি করা হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। রানা প্রতাপ কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি একসময় নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
রানা প্রতাপ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বৃহস্পতিবার ডিবি পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিজানুর রহমান (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে। তিনি একটি আলোচিত হত্যা মামলার তালিকাভুক্ত আসামি। এর আগে পুলিশ নিহত রানা প্রতাপের বান্ধবী ঝুমুর মণ্ডলকে হেফাজতে নেয়। মিজানুর রহমানকে আটকের পরদিন রাতেই কপালিয়া বাজারে ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখার সামনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—একই সময়ে, একই জেলায়, একই ধরনের কায়দায় পরপর দুটি হত্যাকাণ্ড কি নিছক কাকতালীয়? ভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয় থাকা সত্ত্বেও হত্যার ধরনে মিল থাকায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার। তিনি বলেন, “আলমগীর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আটক করা হয়েছে এবং রানা প্রতাপ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। জানুয়ারির শুরু থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত ৫৪টি চেকপোস্ট বসিয়ে ১ হাজার ৪৭০টি মোটরসাইকেল তল্লাশি করা হয়েছে। এ সময় ১৮১টি রেজিস্ট্রেশনবিহীন যানবাহন আটক করা হয়েছে।”
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, জেলার সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্যোগে সাড়ে ৩ হাজার ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বাকি ক্যামেরাগুলো নির্বাচনের আগেই বসানো হবে। পৌর এলাকার ৪৭টি কেন্দ্রেও আলাদা উদ্যোগে ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। খুব শিগগিরই প্রতিটি উপজেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হবে।
ইখা