সিলেটের গোলাপগঞ্জে দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে পুড়ে খামারের ১০টি গরু দগ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার আমুড়া ইউনিয়নের উত্তর ধারাবহর গ্রামে উজ্জ্বল আহমদ নামের এক খামারির ডেইরি ফার্মে এই ঘটনা ঘটে।
পরিবারের সুত্র জানা যায়, দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে খামারে থাকা ১০ টি গরুর মধ্যে দগ্ধ হয়ে দুটি গরু মারা গেছে ও বাকি গরু আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে এবং চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে । এতে তাদের প্রায় ঊনিশলক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে খামারে আগুন লাগার খবর পেয়ে বুধবার (১৪ জানুয়ারি ) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের পরিচালক ডা.জুনায়েদ কবির বলেন, এখানে বিভিন্ন বয়সের ১০টি গরু আক্রান্ত হয়েছে এবং দুটি গরু মারা গেছে। কয়েকটি গরুর পুরো চামড়া পুড়ে গেছে। ভেটেনারি সার্জনসহ আমরা সবাই মিলে আক্রান্ত গরুগুলোকে চিকিৎসা প্রদান করছি ।
ক্ষতিগ্রস্ত খামার মালিক ধারাবহর গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে উজ্জল আহমদ বলেন, আমি দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলাম। দেশে ফিরে দুধ উৎপাদনের জন্য গরুর খামার তৈরি করি। গরুগুলো প্রতিদিনের মতো ফার্মে ছিল। রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ গভীর রাতে কুকুরের ডাকাডাকিতে আমাদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। বাইরে এসে দেখি খামারে আগুন জ্বলছ। এরপর দ্রুত কম্বল ভিজিয়ে গায়ে জড়িয়ে গরুর গলা থেকে দড়ি খুলে দিয়ে বাইরে বের করার চেষ্টা করি। এসময় ডাক-চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এসে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। ততক্ষণে সবগুলো গরুই আগুনে দগ্ধ হয়। পরে দুটি গরু মারা যায়।
তিনি আরও জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে আমাদের গোয়ালে আগুন দেয়া হয়েছে। তাই প্রশাসনের কাছে তদন্তপূর্বক সুষ্ঠু বিচারে দাবি করেছেন প্রবাস ফেরত এ উদ্যোক্তা।
রাতে খামারে আগুন লাগার খবর পেয়ে, গোলাপগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় ফায়ার ও সিভিল সার্ভিসের ষ্টেশন মাষ্টার ফাহিম আহমদ বলেন - বৈদ্যুতিক সট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হয় নি।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, খবরটি শুনে মডেল থানার একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ব্যাপারে থানায় কোন অভিযোগ দাখিল করেন নি খামারি, অভিযোগ করলে, আমরা আইননুক ব্যবস্থা নেব।
এসআর