বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এবারো স্বাধীনতার চেনতা বিরোধী একটা দল ভোট চুরির পরিকল্পনা করছে। এগুলো ব্যপারে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। ইতিহাস ঘেঁটে দেখুন, প্রত্যেকবার দেশকে রক্ষা করেছে বিএনপি। এখন আবার দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছর গ্রাম, উপজেলা জেলা শহরের কোন উন্নতি হয়নি। শহর এলাকায় কিছু মেগা প্রকল্প হয়েছে, কিন্তু মেগা প্রকল্প মানে মেগা দুর্নীতি।
তিনি বলেন, আমরা গ্রাম অঞ্চলের উন্নতি করতে চাই। আমরা উপজেলা শহরে উন্নতি করতে চাই। আমরা জেলা শহরের উন্নতি করতে চাই। আমরা চাই ছাত্র-ছাত্রীদের ভাগ্যের উন্নতি করতে। আমরা চাই দেশের মানুষের জন্য একটা নিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি করতে। যেখানে মানুষ দিনশেষে নিরাপদে বাড়ি ফিরে নিশ্চিন্তে ঘুমাবে।
তারেক রহমান, আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছি। এমন পরিকল্পনা আর কোনো দল করেনি। এখন আর বসে থাকলে চলবে না। মানুষকে এসব পরিকল্পনার কথা জানাতে হবে। আপনারা এখনই মাঠে নেমে পড়ুন। আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়যুক্ত করুন।
তিনি বলেন, আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো। কাজেই আমার পরিকল্পনা বলেছি, এখন আপনাদের পরিকল্পনা ১২ তারিখে বিএনপিকে জয়ী করা। বিএনপি জয়লাভ করলে নওগাঁ জেলার প্রানের দাবী গ্যাস, রেললাইন এবং যেহেতু এটি কৃষি প্রধান এলাকা সেহেতু কৃষি হিমাগার স্থাপন করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।
কৃষকদের উদ্যেশে তিনি বলেন, কৃষকদের ভাল রাখলে বাংলাদেশ ভাল থাকবে। কৃষকদের সুবিধার জন্য শহীদ জিয়া ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋন সুদ মওকুফ করে দিয়েছিলেন। আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋন সুদ মওকুফ করে দিবো। দেশের সকল কৃষকদের কৃষি কার্ড প্রদান করা হবে পর্যায়ক্রমে। যা দিয়ে ফসলের যাবতীয় বীজ-সার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবো। যাতে তার অর্থনীতির ভিত্তি শক্ত হয় এবং প্রাকৃতিক ক্ষতিগ্রস্থ মোকাবেলা করতে পারে। কৃষকদের খরচ কমাতে ফসল ঢাকায় নিতে রেল ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং ট্রেনে চড়ে মানুষ সহজে ঢাকা যেতে পারে। নির্বাচিত হলে পরের দিন থেকে এলাকার উন্নয়নে কাজ শুরু করব।
নারীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, মায়েদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। যা দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিমাসে একটা সুবিধা প্রদান করা হবে। গ্রাম-গঞ্জে মায়েরা ভাল চিকিৎসা সেবা পান না৷ এজন্য গ্রামে হেলথ কেয়ার করা হবে। যাতে ছোট অসুখ ঘরে বসে নিরাময় করতে পারে।
শিক্ষিত বেকারদের উদ্যেশ্যে তিনি বলেন, পড়ালেখা করলে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে এমন না, খেলোয়াড়ও হতে পারে। এজন্য স্কুল থেকে খেলা শিখতে হবে এবং বিদেশে গিয়ে সুনাম অর্জনসহ অর্থনৈতিক ভাবে আয় করতে পারে। সারাদেশে বহুত শিক্ষিত ছেলেমেয়ে আছে। যেহেতু এটা কৃষি অঞ্চল এবং কলকারখানা আছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করলে তাদের কর্মসংস্থান বাড়বে। আইটি সেক্টরে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিভিন্ন বিদেশী কোম্পানির সাথে কথা হয়েছে তারা দেশে আসতে চায়। সেখানে আইটি অভিজ্ঞরা কাজ করতে পারেন।
এমআর-২