ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরুর পর থেকেই সেনাবাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতিতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে স্বস্তি ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ভোটাররা জানান, সংঘর্ষপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত সালথায় ভোটকেন্দ্রকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মনে সাহস জুগিয়েছে। সেনাবাহিনী মাঠে নামার পর ভোটাররা এখন নির্বিঘ্নে মত প্রকাশ করতে পারছেন। বিশেষ করে কেন্দ্রগুলোর আশপাশে সেনাসদস্যদের উপস্থিতি নারী ও প্রবীণ ভোটারদের নিরাপত্তাবোধ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে সালথা উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী। পাশাপাশি চেকপোস্ট বসিয়ে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, কাভার্ডভ্যান ও যাত্রীবাহী যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যানবাহনের পাশাপাশি যাত্রীদের সঙ্গে থাকা ব্যাগও পরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
সালথা আর্মি ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা জানান, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সেনাবাহিনী সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। নির্বাচনকালীন সময়ে কোনো ধরনের সহিংসতা, আধিপত্য বিস্তার কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে।
তারা আরও জানান, নির্বাচনী প্রচারণাকালে সম্ভাব্য সংঘর্ষপ্রবণ ও সংবেদনশীল এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষতা, কঠোর অবস্থান এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর এই দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এনআই