কক্সবাজারের টেকনাফে গহীন পাহাড়ি এলাকায় দুই সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পাচারকারী চক্রের কবলে জিম্মি থাকা ৫ নারীসহ ৬ জনকে অপহরণ করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। গোলাগুলির বিকট শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে; অনেকে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত পূর্ব জুম্মাপাড়া ও বাঘগুনা পাহাড়ি এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে মানব পাচারে জড়িত অপরাধীদের সঙ্গে পাহাড়ে লুকিয়ে থাকা সশস্ত্র অপহরণ চক্রের গোলাগুলি হয়। দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়েছে। গত বুধবার রাতেও একইভাবে ২০ থেকে ৩০ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়েছিল। গোলাগুলির বিকট শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা আক্ষেপ করে বলেন, পাহাড়ে অবস্থান নেওয়া সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের এই তাণ্ডব দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। মানব পাচার ও অপহরণ চক্রের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা বাহারছড়া ইউনিয়নের গহীন পাহাড়ের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এতে পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) ফরিদ উল্লাহ বলেন, “বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা জুম্মাপাড়া ও বাঘগুনা এলাকা সংলগ্ন পাহাড়ে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। খবর নিয়ে জানতে পারি, মানব পাচারে জড়িত অপরাধীদের আস্তানায় জিম্মি থাকা মালয়েশিয়াগামী ভিকটিমদের কেড়ে নেওয়ার জন্য পাহাড় থেকে নেমে আসা অস্ত্রধারী অপহরণ চক্র হামলা চালায়। এতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় চলে আসে।”
এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, গোলাগুলির সময় সশস্ত্র অপহরণকারী চক্র ৫ নারী ও একজন পুরুষকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। অপহৃত ভিকটিমদের উদ্ধার এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে।”
এনআই