মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কৃষিজমিতে জন্মানো বৈথা শাক এখন ঢাকার পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। আগে ফেলনা হিসেবে বিবেচিত এই শাক এখন বিক্রি করে কৃষকরা বাড়তি আয় করছেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের গ্রামীণ ব্যাংকের সামনে কৃষিজমি থেকে শ্রমিকদের বৈথা শাক তুলতে ও মজুত করতে দেখা যায়। এতে একদিকে যেমন জমির আগাছা পরিষ্কার হচ্ছে, অন্যদিকে শাক বিক্রি করে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, বৈথা শাকের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ঢাকা ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন খুচরা বাজারে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। মৃদু স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে ক্রেতাদের কাছে শাকটি বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এ শাকটি শুধুমাত্র শীত মৌসুমে পাওয়া যায়।
কৃষকরা বলেন, আগে এই শাক ফেলে দেওয়া হতো। এখন নিয়মিত বাজারে বিক্রি করে ভালো আয় করা যাচ্ছে। বৈথা শাক শুধু বাড়তি অর্থ আয়ের সুযোগই তৈরি করছে না, বরং জমিতে আগাছা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হচ্ছে। ফলে কৃষি উৎপাদন আরও কার্যকর ও লাভজনক হয়ে উঠছে।
উপজেলার ডাকাতিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক জনি শেখ জানান, তিনি ৭০ শতাংশ জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। সেই জমিতে জন্মানো বৈথা শাক ফেলে না দিয়ে ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করছেন। এতে বাড়তি আয় হচ্ছে, যা তার পরিবারের আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ আটি শাক সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠান এবং প্রতি আটি ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ শুভ্র বলেন, বৈথা শাক মূলত জমির আগাছা হিসেবে পরিচিত হলেও এটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। বর্তমানে অনেক কৃষক সামান্য পরিশ্রমে এই শাক সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন।
এনআই